শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদ ঘিরে মিশরে জমজমাট পশুর হাট, ফিলিস্তিনিদের পাশে বাংলাদেশি সংগঠনগুলো

আফছার হোসাইন, মিশর প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১:১৪ এম
ঈদ ঘিরে মিশরে জমজমাট পশুর হাট, ফিলিস্তিনিদের পাশে বাংলাদেশি সংগঠনগুলো

নীলনদ ও পিরামিডের দেশ মিশরে পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর বেচাকেনা। আগামী বুধবার (২৭ মে) দেশটিতে উদযাপিত হবে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী কায়রোসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে কুরবানির পশুর চাহিদা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যস্ততা তুঙ্গে।বাংলাদেশের মতো মিশরে কুরবানির পশুর জন্য বড় আকারের অস্থায়ী হাটের প্রচলন খুব একটা দেখা যায় না। সাধারণত প্রধান সড়কের পাশে, মহল্লার অলিগলি, কসাইয়ের দোকানের সামনে কিংবা নির্ধারিত কিছু স্থানে পশু বিক্রি করা হয়। এছাড়া অনেক নাগরিক নিজ বাড়ির ছাদে বা ছোট খামারে পশু পালন করেন। তারা পরিবারের প্রয়োজনীয় অংশ রেখে অতিরিক্ত পশু ঈদের সময় বিক্রি করে দেন। রাজধানী কায়রোর কাছাকাছি গিজা জেলার নীলনদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত আল-মানশি এলাকায় একটি বড় পশুর বাজার রয়েছে, যেখান থেকে অধিকাংশ মানুষ কুরবানির পশু সংগ্রহ করেন।এদিকে, চলতি বছর মিশরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশি কয়েকটি মানবিক সংগঠন। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে আলহাজ শামসুল হক (ASH) ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ওয়ান উম্মাহ ফাউন্ডেশন, বিএম শাবাব, মাই ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন।

​সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই কায়রোর বিভিন্ন এলাকা থেকে উট, গরু ও দুম্বা ক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। কুরবানির পর এসব পশুর মাংস মিশরে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থী এবং গাজার অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

​চট্টগ্রাম থেকে আগত আশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দিন জানান,গত বছরের মতো এবারও আমরা বাংলাদেশিদের অনুদান নিয়ে মিশরে এসেছি। উট, গরু ও দুম্বা কিনে ঈদের দিন কুরবানি করে নির্যাতিত ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের মাঝে মাংস বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি গাজার অভ্যন্তরে স্থানীয় একটি সংস্থার সহযোগিতায় গৃহহীন, এতিম ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝেও মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে।”
​তিনি আরও বলেন, এই পুরো কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি ও বাস্তবায়নের জন্য নিজ পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে মিশরে অবস্থান করছেন।
​
​সরেজমিনে কায়রোর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মিশরে কুরবানির পশুর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে ওজনভিত্তিক (কেজি দরে) খারুফ (দুম্বা): প্রতি কেজি প্রায় ৭০০ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। ম্যাকসি ও ডাক্কার (ছাগল/পাঠা) এবং গেদ্দী (ছাগী): প্রতি কেজি প্রায় ৬৫০ টাকা।
​গামাল (উট), বাকারা (গরু) ও গামুছা (মহিষ): প্রতি কেজি গড়ে ৫০০ টাকা।
​

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, একটি মাঝারি আকারের দুম্বার ওজন প্রায় ৭০ কেজি, যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। ৩০ কেজি ওজনের একটি মাঝারি খাসির দাম পড়ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক দুম্বার ওজন ৫০ থেকে ৭৫ কেজির মধ্যে হলেও কিছু দুম্বা ১২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বড় আকারের একটি গরুর মূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ এবং একটি উটের দাম দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
​
​মিশরে কুরবানির একটি ভিন্নধর্মী সামাজিক চিত্র চোখে পড়ে। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই অনেক বিত্তবান মানুষ বাজার থেকে মাংস কিনে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ শুরু করেন। ফলে এ সময় কসাইয়ের দোকান এবং সুপারশপগুলোতে মাংসের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
​বাংলাদেশের মতো এখানে পশু কেনা নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। উল্টো অনেক মিশরীয় কসাইয়ের দোকান থেকে মাংস কিনে ছোট ছোট প্যাকেট তৈরি করে গাড়িতে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। পথচারী শ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, দরিদ্র মানুষ, এমনকি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দেখলেই তারা গাড়ি থামিয়ে মাংসের প্যাকেট হাতে তুলে দেন।মিশরে সাধারণত ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত কুরবানি করা হয়। বিভিন্ন মসজিদেও বিত্তবান ব্যক্তি বা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে টানা কয়েকদিন কুরবানি করে দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাংস বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারিভাবে পশুর দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও মহল্লাভিত্তিক বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা কম বা বেশি মূল্যে পশু বিক্রি করে থাকেন।

​ধর্মীয় আচার, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক সহমর্মিতার এক অপূর্ব সমন্বয়ে এভাবেই মিশরে এগিয়ে চলছে ঈদুল আজহার চূড়ান্ত প্রস্তুতি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক