সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন
হরমুজ প্রণালির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ইরানের হাতেই থাকবে
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তেহরানে প্রচার করা একটি বিলবোর্ড। যাতে লেখা আছে— 'চিরকাল ইরানের হাতেই'। ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেয়া।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা বা শান্তি চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরানের কৌশলগত অবস্থান এতটাই শক্তিশালী যে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, কাগজে-কলমে কোনো চুক্তি হলেও উপসাগরীয় দেশগুলো পুরোপুরি আশ্বস্ত হবে না, কারণ তারা মনে করে এই রুটে ইরানের কার্যকর প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে তেহরানও নিজেদের শর্তে সমাধানের প্রস্তাব দিচ্ছে।
এই অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হোচস্টাইন। তার দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ঘোষিত দামের তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে বিভিন্ন দেশকে। বিশেষ করে দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে এশিয়া হয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এখন ইরানের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প অবকাঠামো নির্মাণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন।













