ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার
লিমনের মরদেহ দেশের পথে, বৃষ্টির মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে শোকের আবহ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং বৃষ্টির মরদেহও পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি উড়োজাহাজে করে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মরদেহটি দুবাই হয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে টাম্পা এলাকার একটি ইসলামিক সেন্টারে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। একইভাবে বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর সেটিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফিউনারেল ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার মরদেহও দেশে পাঠানো হবে এবং জানাজার আয়োজন করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় এপ্রিলের মাঝামাঝি, যখন এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। পরে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। লিমনের রুমমেট, একজন মার্কিন নাগরিক, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হন। জিজ্ঞাসাবাদের পর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে লিমনের মরদেহ এবং পরে বৃষ্টির দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, লিমনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। অপরদিকে বৃষ্টির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় শনাক্ত করতে সময় লাগে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় সহপাঠী ও বন্ধুদের উদ্যোগে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, যা দুই পরিবারের কাছে সহায়তা হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বাসস্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।













