সুসংহত সমাজ গঠনে 'পরিবারই মূল ভিত্তি’
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও আইন সম্মেলনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
মিশরের বিশ্বখ্যাত জ্ঞানের বাতিঘর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও আইন অনুষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ। সম্মেলনে তিনি আধুনিক বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে সুসংহত সমাজ গঠনে পরিবারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
সুসংহত সমাজে পরিবারের ভূমিকা,
গত ১৮ এপ্রিল কায়রোর নাসর সিটিতে অবস্থিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মূল থিম ছিল “একটি সুসংহত সমাজ গঠন: আধুনিক চ্যালেঞ্জে পরিবারকে রক্ষা।
উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পরিবার হলো সমাজের মৌলিক ভিত্তি। ঐতিহ্যগত পরিবার ব্যবস্থা, যেখানে মা-বাবা এবং সন্তানরা একত্রে বসবাস করে, সেটিই একটি টেকসই ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন রেজুলেশনে ‘ট্র্যাডিশনাল ফ্যামিলি’ ধারণার স্বীকৃতির কথা এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ, মিশর ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ- সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাইখুল আজহারের প্রতিনিধি, মিশরের ধর্মমন্ত্রী ড. ওসামা আল-আজহারি, দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক গ্র্যান্ড মুফতিসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা আলেম, আইনবিদ, গবেষক ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। দেশটির জাতীয় সংগীত এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়।সম্মেলনের সভাপতি ও শরিয়া ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আতা আবদুল আতি আস-সানবাতি বলেন, “পরিবার সমাজের মূল ভিত্তি হলেও আধুনিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্রভাবের কারণে এটি বর্তমানে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মেলনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়ে গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মিশরের ধর্মমন্ত্রী ড. ওসামা আল-আজহারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পরিবার একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান। সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আলেম এবং দাওয়াহ কর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরী।
সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্দোনেশিয়ার সুলতান আগুং ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মাশদুর হাতুন। তিনি নববী দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যান্য বক্তারা পরিবারকে সমাজের ‘সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে অভিহিত করে সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে পরিবারকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির অনুরোধ-
সম্মেলনের মূল পর্বের আগে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রী, গ্র্যান্ড মুফতি এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের জন্য বাৎসরিক বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর বিশেষ অনুরোধ জানান।
শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় ও অনুপ্রেরণা-
সম্মেলন শেষে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় আরও বেশি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে পেরে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ইসলামিক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আল হাসান বলেন, “আমি এই সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত। এখানকার অর্জিত জ্ঞান আমি দেশে গিয়ে কাজে লাগাতে চাই।” ইসলামিক থিওলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ এবং মিরাজুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণা দায়ক। এজন্য আমরা বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূত-এর প্রতি কৃতজ্ঞ।












