স্মৃতি আজাদ:
সংস্কৃতি-মানবাধিকার ও জনসেবায় এক নিবেদিত প্রাণ
লন্ডনের ব্ল্যাকওয়াল অ্যান্ড কিউবিট টাউন আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই নগরজীবনে এমন একজন প্রতিনিধির প্রয়োজন, যিনি কেবল রাজনীতির ভাষা বোঝেন না, বরং মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং প্রাত্যহিক সংগ্রামের বাস্তবতাও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। সেই প্রেক্ষাপটে স্মৃতি আজাদ একটি অত্যন্ত পরিচিত, বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত নাম।
বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার লালপুর গ্রামের সন্তান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব রশীদ ঢালীর কনিষ্ঠ কন্যা স্মৃতি আজাদ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। একজন নিবেদিত সাংস্কৃতিক কর্মী, সমাজসেবী ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশে থাকাকালীন শৈশব থেকেই তিনি নাটক, আবৃত্তি, সংগীত এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক আবহে গড়ে ওঠা দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের চেতনা তাঁর চিন্তা ও কর্মজীবনের মূল ভিত্তি।
১৯৯৫ সালে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের পর তিনি অনুভব করেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্য থেকেই ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “Docklands Theatre & Performing Arts”। এটি এখন কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব পরিচয়, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক সচেতনতা পৌঁছে দেওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র।
একজন নাট্যশিল্পী ও সংগঠক হিসেবে স্মৃতি আজাদ অভিবাসী জীবনের গল্প এবং অবহেলিত মানুষের অধিকারের কথা শিল্পকলার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি একজন সুপরিচিত আবৃত্তিকার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিভিন্ন রেডিও, টেলিভিশন এবং কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে তিনি দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
স্মৃতি আজাদের কর্মতৎপরতা কেবল সংস্কৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বর্তমানে তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি (যুক্তরাজ্য শাখা)-এর সহ-সভাপতি এবং সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি লন্ডনে ‘বাংলাদেশ বইমেলা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাঁর পদচারণা অত্যন্ত বলিষ্ঠ। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির একজন একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তিনি পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস এলাকায় জি.সি সদস্য এবং ব্ল্যাকওয়াল ও কিউবিট টাউন শাখার নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি তাঁর গভীর মমতা তাঁকে একজন দক্ষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তুলেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ব্ল্যাকওয়াল অ্যান্ড কিউবিট টাউন ওয়ার্ড থেকে লেবার পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর সঙ্গে একই প্যানেলে রয়েছেন মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম এবং কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যালেক্স স্ট্যানলি (Alex Stanly) ও আনোয়ার পুনেকার (Anwar Punekar)।স্মৃতি আজাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট: সবার জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর কমিউনিটি গড়ে তোলা। তিনি এমন একজন প্রতিনিধি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাকে সাধারণ মানুষ সবসময় পাশে পাবেন—যিনি হবেন দৃশ্যমান, সহজলভ্য এবং দায়বদ্ধ।
বর্তমান সময়ে আমাদের এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা অভিজ্ঞতা, সততা এবং মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। স্মৃতি আজাদ সেই আস্থার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
আগামী ৭ই মে, আপনার একটি ভোট কেবল একজন প্রার্থী নির্বাচন করবে না, বরং আপনার কমিউনিটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং মানবিক সমাজ গড়তে স্মৃতি আজাদের জয় নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
লেখক: ড. আজিজুল আম্বিয়া কলাম লেখক ও গবেষক










