সংসদে অর্থমন্ত্রী
কাঠামোগত দুর্বলতায় ঝুঁকির মুখে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সংকটের মুখে
ছবি- সংগৃহীত।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি এখন গুরুতর ঝুঁকির মুখে। তিনি দাবি করেন, বিগত দেড় দশকের বেশি সময়ে অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের ফলে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অবৈধ পথে অর্থ বিদেশে পাচার এবং হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা একসময় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রপ্তানিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে আমদানি প্রবৃদ্ধি কমেছে।
অর্থমন্ত্রী সংসদে অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা দুর্বলতার কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে আসে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৯.৭৩ শতাংশে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিল্প ও কৃষি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। একসময় শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি থাকলেও তা নেমে এসেছে প্রায় ৩.৫ শতাংশে। একইভাবে কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশের কিছু বেশি।
কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শিল্প খাত দুর্বল হয়ে পড়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমেছে। ফলে অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে যুক্ত হচ্ছেন, যেখানে উৎপাদনশীলতা তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে কৃষি খাত জাতীয় আয়ে কম অবদান রাখলেও এই খাতেই কর্মসংস্থানের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারের গভীর সমস্যার ইঙ্গিত দেয় এবং কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে তরুণদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।










