অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বললেন
‘ডিপ স্টেট’ থেকে ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব আসে, তবে শর্ত মানেনি অন্তর্বর্তী সরকার
ফাইল ছবি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, তাদের দায়িত্ব পালনকালের শুরুতে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী থেকে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এই গোষ্ঠীকে সাধারণভাবে ‘ডিপ স্টেট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করতে চাননি।
শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কয়েক মাসে বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এই প্রস্তাব আসে। (সূত্র: প্রথম আলো)
ঢাকায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিভিন্ন শক্তিশালী মহল থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সরকার ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তারা সহযোগিতা দেবে।
তিনি জানান, প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণ সীমিত করার কৌশল। বিশেষ করে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দীর্ঘায়িত করার বিষয়টি সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, যাতে নির্বাচন হলেও তারা অংশ নিতে না পারেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এসব প্রস্তাবের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলও তুলে ধরা হয়েছিল—কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সে পথে হাঁটেনি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে তারা নিজেরাই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ‘ডিপ স্টেট’ বলতে ঠিক কোন কোন শক্তিকে বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কেবল ইঙ্গিত করেছেন, এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য কোনো সাবেক সদস্য এখন পর্যন্ত এ ধরনের প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে বলেননি, তবুও সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ‘ডিপ স্টেট’ ধারণা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।













