যুদ্ধের প্রভাবে হিলিয়াম সংকট, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাতে বাড়ছে শঙ্কা
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এবার বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে চিকিৎসা খাত, বিশেষ করে এমআরআই সেবা, এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে Al Jazeera।
সরবরাহে বড় ধাক্কা
বিশ্বে ব্যবহৃত হিলিয়ামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ আসে কাতার থেকে। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে হিলিয়াম রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে গেছে।
হিলিয়াম মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় হিলিয়ামের উৎপাদনও কমে গেছে।
পরিবহন জটিলতায় বাড়ছে সংকট
হিলিয়াম সংরক্ষণ ও পরিবহন অত্যন্ত জটিল। এটি তরল অবস্থায় বিশেষ কন্টেইনারে রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার না করলে তা আবার গ্যাসে পরিণত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পরিবহনে বিলম্ব হলে সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে ৩০ দিনের বিঘ্ন ঘটলে হিলিয়ামের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি সংকটে এই বৃদ্ধি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এমআরআই সেবায় সম্ভাব্য প্রভাব
চিকিৎসা খাতে হিলিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। MRI scan-এ ব্যবহৃত সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট ঠান্ডা রাখতে হিলিয়াম অপরিহার্য। এই গ্যাস ছাড়া এমআরআই মেশিন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট হিলিয়ামের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমআরআই মেশিনে ব্যবহৃত হয়। ফলে সরবরাহ কমে গেলে হাসপাতালগুলোতে এমআরআই সেবা ব্যাহত হতে পারে এবং রোগীদের অপেক্ষার সময় বেড়ে যেতে পারে।
প্রযুক্তি খাতেও চাপ
হিলিয়াম শুধু চিকিৎসা খাতেই নয়, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি খাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্টফোন, গাড়ি, ডেটা সেন্টারসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকট প্রযুক্তি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়ছে
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। এতে চিকিৎসা, শিল্প ও প্রযুক্তি—সব খাতেই বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
হিলিয়াম সংকট শুধু একটি জ্বালানি বা শিল্প সমস্যা নয়—এটি সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এমআরআইসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবায় বিলম্ব অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।









