বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তি ও সত্য প্রকাশের পূর্বে ফ্যালাসিস চর্চার গুরুত্ব

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আকবর হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:২১ পিএম
যুক্তি ও সত্য প্রকাশের পূর্বে ফ্যালাসিস চর্চার গুরুত্ব

যৌক্তিক ভ্রান্তি মূলত যুক্তির ত্রুটি, এগুলি যৌক্তিকভাবে ভুল যুক্তি, যা রাজনীতিবিদ এবং মিডিয়া হাউসগুলি আমাদের বোকা বানানোর জন্য প্রচুর ব্যবহার করে থাকে। এগুলি মূলত তথ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

“স্ট্র ম্যান ফ্যালাসি” হলো অন্যের যুক্তিকে বিকৃত করে সেটিকে আক্রমণ বা খণ্ডন করা । প্রতিপক্ষের আসল যুক্তির জবাব না দিয়ে, কেউ কিছুটা একই রকম কিন্তু সমান নয় এমন একটি যুক্তি উপস্থাপন করে। এটি এমন এক প্রকার যৌক্তিক ভ্রান্তি যেখানে যুক্তিকে এমনভাবে বিকৃত করা হয় যে তার পাল্টা যুক্তি দেওয়া সহজ হয়ে যায়। যুক্তিকে বিকৃত করার অনেক পদ্ধতি আছে, যেমন—যুক্তিকে অতি সরলীকরণ করা, যুক্তিকে অতিরঞ্জিত করা, অথবা যুক্তিকে তার প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

উদারনসরূপ- প্রথম ব্যক্তি- আমি মনে করি, সন্তান জন্মদানের পর প্রথম বছরে বেকার স্বামীহীন মায়েদের জন্য ভাতা বাড়ানো উচিত, কারণ তাদের সন্তানদের চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দ্বিতীয় ব্যক্তি- তাহলে আপনি মনে করেন যে নারীদের স্বামীহীন মা হতে উৎসাহিত করা উচিত এবং পরিশ্রমী নাগরিকদের করের টাকায় তাদের বিনা পরিশ্রমে সুবিধা ভোগ করতে দেওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদে এটি কেবল আমাদের অর্থনীতি এবং সমাজেরই ক্ষতি করবে।

স্লিপারি স্লোপ ফ্যালাসি হলো এমন একটি যুক্তি যা দাবি করে যে একটি প্রাথমিক ঘটনা বা কাজ অন্যান্য ঘটনার একটি ধারাকে উস্কে দেবে এবং একটি চরম বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে। এই স্লিপারি স্লোপ ফ্যালাসি তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না দিয়েই এই ঘটনাপ্রবাহের পূর্বাভাস দেয়। এই ভ্রান্ত যুক্তিটি ভীতি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, কোনো একটি বিষয় নিয়ে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য। যেমনটা উদাহরনে বলা হয়েছে, যা বাস্তবে এমনটা যে ঘটবে তার কোনো প্রমাণ নেই, এটি শুধুমাত্র মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।

উদারনসরূপ- প্রথম ব্যক্তি- উন্নায়নের নামে যেই ভাবে অর্থ ঋণ করা হচ্ছে তাতে কি দেশের মঙ্গল হচ্ছে?

দ্বিতীয় ব্যক্তি- ঋণ ছাড়া কিভাবে নিজ দেশের অর্থ দিয়ে দেশের উন্নায়ন সম্ভব, আজ ঋণ করেও হলেও দেশের উন্নায়ন ঘটছে না হলে তো দেশটা জঙ্গি দেশে পরিনত হবে।

পক্ষপাতদুষ্ট/ অন্তর্নিহিত প্রশ্ন ফ্যালাসি হলো এমন একটি প্রশ্ন যার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত অনুমান থাকে। একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সেটিকে নতুনভাবে না সাজিয়ে উত্তর দিলে, তা প্রশ্নটির অনুমানের সাথে একমত হওয়াকেই বোঝায়। আপনি হ্যাঁ বা না, যা-ই উত্তর দিন না কেন, যুক্তির উপসংহারটি আগেই তৈরি হয়ে যায়। এই কারণে, পক্ষপাতদুষ্ট প্রশ্ন করাকে একটি কারসাজিপূর্ণ, অসৎ বিতর্ক কৌশল এবং এক প্রকার যৌক্তিক ভ্রান্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পক্ষপাতদুষ্ট প্রশ্নের পেছনের উদ্দেশ্য সাধারণত উত্তরদাতাকে অপ্রস্তুত করে দেওয়া, যার ফলে তিনি হয়তো কোনো গোপন কথা প্রকাশ করে ফেলবেন, এমন কোনো বক্তব্যের সাথে একমত হবেন যা তার মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে না, অথবা আত্মরক্ষামূলক হয়ে উঠবেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবেন। পক্ষপাতদুষ্ট প্রশ্ন হলো এক প্রকার অনানুষ্ঠানিক যৌক্তিক ভ্রান্তি, অর্থাৎ এগুলো গঠনগত ভুলের পরিবর্তে বিষয়বস্তুগত ভুল।

পক্ষপাতদুষ্ট প্রশ্নকে কখনও কখনও নির্দেশনামূলক প্রশ্নের (directing questions) সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়। পক্ষপাতদুষ্ট এবং নির্দেশনামূলক উভয় প্রকার প্রশ্নই উত্তরদাতাকে একটি নির্দিষ্ট উত্তরের দিকে পরিচালিত করে, কিন্তু এদের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

উদারনসরূপ- “আপনি কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে সমর্থন করবেন?” আপনার উত্তর যাই হোক না কেন, উপসংহারটি আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। আর তা হলো, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

মিথ্যা দ্বিধাবিভক্তি ফ্যালাসি

মিথ্যা দ্বিধার ভ্রান্তি তখন ঘটে যখন কেউ কোনো বিষয়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করে, হয় কেবল দুটি বিকল্প দেখিয়ে (যদিও আরও বিকল্প থাকে) অথবা বিকল্পগুলোকে পরস্পর বর্জনীয় হিসেবে দেখানো।

যেমনটা- দেশকে বেছে নিতে হবে, উন্নয়ন অথবা ধ্বংস। ”এ” অথবা “বি”, অন্য কোনো বিকল্প নেই। এই যৌক্তিক ভ্রান্তিকে বলা হয় মিথ্যা দ্বিবিভাজন, যেখানে আপনি মানুষকে দেখান যে তাদের কাছে মাত্র দুটি বিকল্প আছে, হয় এটা অথবা ওটা।

এর আরেকটি চমৎকার উদাহরণ হলো, হয় আপনি সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে অথবা আপনি একজন সন্ত্রাসী সমর্থক। এক নজরে এটা সঠিক মনে হয়। আপনি হয় তাদের বিরুদ্ধে থাকতে পারেন অথবা তাদের সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে দুইটির বেশি বিকল্প আছে, এমনও হতে পারে যে আপনি মৃত্যুদণ্ড এবং সন্ত্রাসবাদ উভয়েরই বিরোধী।

বৃত্তাকার/চক্রাচার যুক্তি ফ্যালাসি

চক্রাকার যুক্তির ভ্রান্তি (যা চক্রাকার যুক্তি বা সার্কুলাস ইন প্রোবান্ডো নামেও পরিচিত) হলো এক প্রকার যৌক্তিক ভ্রান্তি, যেখানে কোনো যুক্তির উপসংহারটি তার কোনো একটি পূর্বানুমানের মধ্যেই ধরে নেওয়া হয়। অন্য কথায়, যুক্তিটি একটি বৃত্তে ঘোরে: এটি পূর্বানুমানকে সমর্থন করার জন্য উপসংহার ব্যবহার করে, এবং তারপর উপসংহারকে সমর্থন করার জন্য পূর্বানুমানটি ব্যবহার করে। এটি কোনো নতুন বা স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়।

উদাহরণ: আমাদের পণ্যটি সেরা, কারণ এটি সর্বোচ্চ মানের।

এবং আমরা জানি এটি সর্বোচ্চ মানের, কারণ এটিই সেরা।

রেড হেরিং ফ্যালাসি

রেড হেরিং ফ্যালাসি হলো কোনো আলোচনাকে তার মূল বিষয় থেকে অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। পাঠক বা শ্রোতার মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করে রেড হেরিং ব্যবহার করা হয়। এটি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। এর ফলে, কেউ অন্যদের মনোযোগ মূল আলোচনার বিষয় থেকে সরিয়ে দিতে পারে অথবা কোনো কঠিন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যেতে পারে। রেড হেরিং ফ্যালাসি হলো এক ধরনের যৌক্তিক ভ্রান্তি বা যুক্তির ত্রুটি, যা তখন ঘটে যখন আলোচ্য মূল বিষয় বা যুক্তি থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য একটি বিভ্রান্তিকর যুক্তি বা প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়। রেড হেরিং বলতে সেই তথ্যকে বোঝায় যা মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, রহস্য উপন্যাসে প্রায়শই এমন একটি চরিত্র থাকে যা সম্ভাব্য সন্দেহভাজন হিসেবে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়। এক্ষেত্রে, পাঠককে ভুল পথে চালিত করতে, গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং একটি চমকপ্রদ সমাপ্তি উপহার দিতে রেড হেরিং একটি সাহিত্যিক কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কখনও কখনও, অন্যদের প্রভাবিত করার জন্য একটি আলঙ্কারিক কৌশল হিসেবে রেড হেরিং ব্যবহার করা হয়, বা এমনকি তর্কের সময় দুর্ঘটনাক্রমেও ব্যবহৃত হয়, সেক্ষেত্রে আমরা একে রেড হেরিং ফ্যালাসি বলি। উদাহরণস্বরূপ, রাজনীতিবিদরা প্রায়শই জনসমক্ষে করা কঠিন প্রশ্ন এড়ানোর জন্য এটিকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে, তারা শ্রোতাদের মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো সম্পর্কহীন বিষয়ে কথা বলা শুরু করতে পারেন।

ব্যক্তি আক্রমণ ফ্যালাসি

ব্যক্তি আক্রমণ ফ্যালাসি/অ্যাড হোমিনেম শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো “ব্যক্তির প্রতি”, অর্থাৎ “ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে”। সুতরাং, একটি অ্যাড হোমিনেম যুক্তি হলো কোনো বক্তব্যের বৈধতার ওপর আক্রমণ না করে, বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তির ওপরই আক্রমণ করা। সাধারণ ভাষায়, এটি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসাবে পরিচিত। একটি অ্যাড হোমিনেম যুক্তি বা অ্যাড হোমিনেম আক্রমণের লক্ষ্য হলো কোনো বিরোধী মতকে সরাসরি আলোচনায় না এনে পরোক্ষভাবে খণ্ডন করা। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি সাধারণত নিজেকে রক্ষা করার প্রয়োজন অনুভব করেন এবং এর ফলে আলোচনার বিষয় থেকে সরে যান, যা অ্যাড হোমিনেম যুক্তির শক্তি প্রদর্শন করে। অ্যাড হোমিনেম ভ্রান্তি হলো একটি যৌক্তিক ভ্রান্তি, বিশেষত এটি প্রাসঙ্গিকতার একটি ভ্রান্তি, অর্থাৎ, উত্থাপিত যুক্তিটি আলোচনার জন্য অপ্রাসঙ্গিক। অ্যাড হোমিনেম ভ্রান্তি তথ্যের পরিবর্তে আমাদের আবেগ এবং পূর্বধারণাকে কাজে লাগায়।

উদারনসরূপ-

ব্যক্তি ১: আমি মনে করি ন্যূনতম মজুরি আইন প্রয়োগ করা জরুরি, যাতে শ্রমিকরা শোষিত না হয়।

ব্যক্তি ২: বাজে কথা। তুমি তো শুধু এ কথা বলছ কারণ তুমি একটা ভালো চাকরিই পাচ্ছ না!

আপনি যত বেশি এর অনুশীলন করবেন, আপনার জীবনে তত ভালোভাবে যুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি আপনার বিষয়গুলিকে সমালোচনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা উন্নত করবে এবং আপনাকে মানুষের সাথে বিতর্ক করতে সাহায্য করবে। তাই এই যৌক্তিক ভ্রান্তিগুলো অনুশীলন করতে থাকুন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক