ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনার শহর ডিমোনায় ইরানের হামলা, ৩৯ জন আহত
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনায় ইরানের নিক্ষেপ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, এতে শহরের অন্তত একটি আবাসিক ভবন গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভবনের অংশ ধসে পড়ে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিদ অ্যাডমের (এমডিএ) প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ২০ জন এবং পরবর্তী আপডেটে মোট ৩৯ জন পর্যন্ত আহতের তথ্য এসেছে, অন্য কিছু আন্তর্জাতিক মাধ্যমে হতাহত সংখ্যা ৪০–৪৭ জন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে সংখ্যা আরও হালনাগাদ হতে পারে। এমডিএ জানায়, আহতদের দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে এবং অনেকে বোমার স্প্লিন্টার ও ভাঙা কাঁচের আঘাতে জখম হন; কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক স্থাপনা ও আইএইএর অবস্থান
ডিমোনা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রকে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি। ডিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর জানার পর আইএইএ দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে এবং সংস্থার মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে টেলিক্স বার্তায় জানানো হয়, নেগেভ গবেষণা কেন্দ্রে ক্ষতির কোনো ইঙ্গিত নেই এবং আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ধরা পড়েনি। সংস্থাটি জানায়, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে সরাসরি সংঘর্ষের লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ ধরনের যেকোনো হামলা মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা ডেকে আনতে পারে; তাই সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভিডিও, প্রচারিত ফুটেজ ও ভুয়া তথ্যের প্রসঙ্গ
হামলার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে আকাশ থেকে দ্রুতগতিতে একটি গোলা নেমে এসে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখা যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সব ফুটেজই যে ডিমোনার ঘটনা—তা নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে ২০১৭ সালে ইউক্রেনের একটি গোলাবারুদ গুদামে বিস্ফোরণের পুরোনো ভিডিওকে ইরানের এই হামলার ফুটেজ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা বাস্তবে ডিমোনার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; সংস্থাটি এই ভিডিওগুলোকে ‘ভুয়া প্রেক্ষাপটে ব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছে। ফেক ভিডিওর মাধ্যমে ডিমোনার পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর ধ্বংস হয়েছে বলে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং আইএইএ ও একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বর্তমানে পারমাণবিক স্থাপনার অক্ষত থাকার অবস্থানই তুলে ধরছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়া
ডিমোনায় হামলার ঘটনাকে ইরান তার বিরুদ্ধে পরিচালিত ইসরায়েলি হামলার ‘প্রতিশোধমূলক জবাব’ বলে উল্লেখ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত রয়েছে, যদিও পুরো বিষয়টি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা–প্রতিহামলার ধারাবাহিকতায় পারস্য উপসাগর থেকে লেভান্ট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একাধিক দেশ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে দুই পক্ষকেই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে, বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু না বানানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে










