মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে এবার ঈদের আনন্দের বদলে ভয়
ছবিঃ সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশি প্রবাসীদের মনে এবার ঈদের আনন্দের বদলে ভয় আর উদ্বেগের আধিপত্য। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দিনরাত কাটাচ্ছেন লাখো প্রবাসী, যাদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার ঈদুল ফিতরের মধ্যেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর, নামাজ মসজিদে সীমাবদ্ধ এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুদ্ধবেষ্টনীতে পড়েছে। এ অঞ্চলে ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক-কর্মচারী জীবিকা নির্বাহ করছেন সৌদি, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানে। সৌদি, বাহরাইন, আমিরাত ও ইরাকে কয়েক বাংলাদেশি নিহত হলেও বেঁচে থাকা প্রবাসীরা মৃত্যুভয়ে দিন যাপন করছেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই ঈদ তাঁদের কাছে উদাসীনতায় রূপ নিয়েছে।
কাতারের আল-শাহনিয়ায় ব্যাংকে হিসাবরক্ষক কবীর (ছদ্মনাম) বলেন, “এবার ঈদের কোনো রঙ নেই।” কর্মস্থলে পুলিশ নিয়মিত সতর্কবার্তা দিচ্ছে, অ্যালার্ম বাজলে গ্রাহকসহ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার ট্রেনিং চলছে। তার ব্যাংক থেকে মাত্র ১০-১৫ কিমি দূরে বোমাহামলা হয়েছে, টানা ১০ দিন ঘরবন্দি থাকতে হয়েছে। আয়ান খালেদ, আল ওয়াব বা লুসাইলের মতো এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ, ঈদে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যাতায়াত অসম্ভব। নিরাপত্তায় ঈদনামাজ মসজিদের ভিতরে আদায় করতে হবে। মোবাইলে সরকারি সতর্কবার্তা আসছে নিরন্তর।
কুয়েতের আল-জাহরায় ক্লিনিং কোম্পানির শ্রমিক আজিজ (ছদ্মনাম) নরসিংদী পরিবারের কাছে ১৬ মার্চ ঈদ কাটাতে টিকিট কেটেছিলেন, কিন্তু ফ্লাইট বাতিলে স্বপ্ন ভূঁয়ে। প্রশাসন খোলা মাঠে নামাজ নিষিদ্ধ করেছে, শুধুমাত্র মসজিদে অনুমতি। পুলিশ প্রবাসীদের সভায় সাইরেন বাজলে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসেরও জরুরি নির্দেশনা মেনে চলছেন তাঁরা, যদিও এলাকায় সরাসরি হামলার ভয় কম।
সৌদির পূর্বাঞ্চলে আতঙ্ক বেশি, তবে মক্কা-মদিনা-জেদ্দায় স্বাভাবিক। রিয়াদে সতর্কতা জোরালো। বাহরাইনের মানামায় ইরানি হামলায় প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে, জোরে শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়; অনলাইনে যুদ্ধ সংবাদ শেয়ার করায় গ্রেপ্তারির ঝুঁকি, চাকরি হারানোর ভয়। ওমানের সোহারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও যেকোনো হামলার আশঙ্কা। আমিরাত ও ওমানেও US ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় প্রবাসীরা সবচেয়ে বিচিত্র। দূতাবাসগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ সংবাদ শেয়ার না করার পরামর্শ দিচ্ছে, যেমন সৌদি দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি।












