শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সার সঙ্কটে বিশ্বজুড়ে নতুন খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

সার সঙ্কটের কারণে পুরো বিশ্ব এখন বড় ধরনের খাদ্য সঙ্কটের ঝুঁকির মুখে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আল জাজিরা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৬ এম
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সার সঙ্কটে বিশ্বজুড়ে নতুন খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, সার সঙ্কটের কারণে পুরো বিশ্ব এখন বড় ধরনের খাদ্য সঙ্কটের ঝুঁকির মুখে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে গালফ অঞ্চল থেকে সার ও গ্যাস পরিবহনে বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ায় একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে সার ও খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি ছুঁয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু জ্বালানির দাম বাড়াই নয়, গালফ অঞ্চলে সার উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এর ধাক্কা আরও গভীরভাবে পড়বে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।

গালফ অঞ্চল বিশ্বের মোট সার উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইউরিয়া সারের প্রায় ৪৬ শতাংশ যোগান দেয় বলে শিপিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিগন্যাল গ্রুপ জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক কাতার ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ক্যাফকো) একাই বিশ্বের প্রায় ১৪ শতাংশ ইউরিয়া সরবরাহ করে থাকে। হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী মোট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।​

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইরানে ও গালফ অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনা ও এলএনজি টার্মিনালে হামলার পর গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক সার কারখানাই উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করেছে। কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম ইউরিয়া উৎপাদন স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে কাতার থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের রপ্তানি কমে যাওয়ায় ভারত তিনটি ইউরিয়া কারখানায় উৎপাদন কমিয়েছে এবং বাংলাদেশ পাঁচটির মধ্যে চারটি সার কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন কৃষি খাতও এই সঙ্কটে পড়েছে; বছরের এই সময়ে প্রয়োজনীয় সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইউরিয়া ঘাটতিতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরিয়া রপ্তানি মূল্য ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৫০০ ডলারের নিচ থেকে ৭০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।​

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি যদি দ্রুত কমে না, তবে বিশ্বব্যাপী সারদামের আরও বড়ো ধাক্কা আসতে পারে; ইউরিয়ার দাম দ্বিগুণ এবং ফসফেট সারের দাম অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশসহ অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম সার ব্যবহার করতে পারেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফসলের ফলনে।​

ইউরোপে রাশিয়ান সস্তা গ্যাসের জোগান বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সারের ঘাটতি চলছে; তার ওপর চীন নিজস্ব কৃষকদের স্বার্থে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের রপ্তানি সীমিত করেছে, ফলে সরবরাহ সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে।

ইতিমধ্যে গালফের সার আমদানিনির্ভর বড় কৃষি উৎপাদক দেশগুলো যেমন ভারত, ব্রাজিল ও চীন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ভারত তার ইউরিয়া ও ফসফেট সারের ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, আর ব্রাজিল প্রায় পুরো সারণ সরবরাহেই আমদানিনির্ভর, যার অর্ধেকের মতোই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে।​

বিশ্লেষকদের মতে, সার সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে ধান, গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যেতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যের দাম আরও বাড়বে এবং আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলোতে স্থানীয় খাদ্য সঙ্কট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

একজন সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্লেষক আল জাজিরাকে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি থেকে যাবে; সরাসরি অবরোধ না থাকলেও ড্রোন হামলার আশঙ্কা থাকায় অনেক জাহাজই চলাচলে অনিচ্ছুক। তার ভাষায়, পরিবহন ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে বলেই জ্বালানি ও সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে আটকে থাকতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেবে এবং খাদ্যদ্রব্যের উপর চাপ আরও বাড়াবে

সুত্রঃ আল জাজিরা

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক