শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদে আসছে শাকিবের নতুন ছবি ‘প্রিন্স’, টিজারে গ্যাংস্টার

বিনোদন ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
ঈদে আসছে শাকিবের নতুন ছবি ‘প্রিন্স’, টিজারে গ্যাংস্টার

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢালিউডের মেগাস্টার শাকিব খানের নতুন ছবি ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনায়। ছবিটির প্রি-ব্লাস্ট টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।​

ঈদে বড় বাজেটের গ্যাংস্টার ড্রামা

নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নির্মিত হচ্ছে ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি বড় বাজেটের আরবান গ্যাংস্টার–ভিত্তিক অ্যাকশন ড্রামা, যার মূল পটভূমি ঢাকা শহরের অন্ধকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। আগামী ঈদুল ফিতর ২০২৬-এ ছবিটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

প্রথম লুক পোস্টার প্রকাশের সময় শাকিব খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, “একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো—এবার শহর তার সত্যিকারের নায়ককে চিনবে! হিয়ার কামস দ্য মিথ ইন মোশন।” এ ক্যাপশন ঘিরেই ভক্তদের মধ্যে ছবিটিকে নিয়ে রহস্য ও আগ্রহ আরও বেড়েছে।​

টিজার: অন্ধকার শহর, মিথিকাল অ্যান্টি–হিরো

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত ‘প্রিন্স’ ছবির প্রি-ব্লাস্ট টিজারে দেখা যায়, গ্যাংস্টারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক অন্ধকার ও সহিংস ঢাকা শহর, যেখানে আইন নয়, বরং ভয়ের শাসন চলছে—এমন ইঙ্গিতবাহী ভিজ্যুয়াল ও ডায়লগ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, দ্রুত কাট, আগুনের শিখা আর অস্ত্রবহুল ভিজ্যুয়াল মিলিয়ে টিজারটি একটি স্টাইলাইজড, হাই-ওকটেন অ্যাকশন থ্রিলারের আবহ তৈরি করেছে।

এখানে শাকিব খানকে দেখানো হয়েছে এক রহস্যময়, প্রভাবশালী চরিত্রে, যিনি শুধু নায়ক নন, বরং শহরের ক্ষমতার ভারসাম্য নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক ‘ঝড়’—এমন ইঙ্গিত এসেছে টিজারের উপস্থাপনা থেকে। টিজারে পুরো গল্প খোলাসা না করেও ক্ষমতা, সাম্রাজ্য, আধিপত্য আর প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে রাখা হয়েছে।

কাস্ট, ক্রু ও চরিত্রের ইঙ্গিত

ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। তার বিপরীতে আছেন তাসনিয়া ফারিন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। আরও আছেন রিঙ্কু দাস, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, নাসির উদ্দিন খান, ইন্তেখাব আলমসহ একাধিক শিল্পী, যাদের উপস্থিতি টিজার ও প্রোমোতেও ধরা পড়েছে।

ইন্টারনেট–ভিত্তিক চলচ্চিত্র ডেটাবেস ও প্রযোজনা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ ও আরও কয়েকজন সহ–লেখক, যারা ঢাকার অপরাধ জগত ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে সিনেমাটিক ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্লটের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, ভক্তদের ধারণা—একজন ‘প্রিন্স’ নামের গ্যাং লিডার বা কিংপিনকে ঘিরেই গল্প এগোবে, যাকে ঘিরে শহরের ক্ষমতার নকশা বদলে যায়।

নির্মাতা ও নায়কের মন্তব্য

প্রথম পোস্টার উন্মোচনের সময় এক আলাপচারিতায় পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, “এটা আমার জন্য প্রথম বড় ক্যানভাসের সিনেমা। ‘প্রিন্স’ শুধু একটি চরিত্র না, ঢাকার এক সময়ের বাস্তবতা আর মিথ মিলে তৈরি করা এক জগৎ। বড় পর্দায় দর্শকদের জন্য কিছু আলাদা করতে চেয়েছি।”​

শাকিব খানও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “দর্শকদের জন্য প্রতিবারই কিছু নতুন দেওয়ার চেষ্টা করি। ‘প্রিন্স’ সেই চেষ্টা থেকে জন্ম নেওয়া একটি প্রজেক্ট। ঈদেই দেখা হবে হলের পর্দায়।”​​

ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা

টিজার প্রকাশের পর থেকেই ইউটিউব, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ‘প্রিন্স’ নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এটি হতে পারে তার অন্যতম ডার্ক ও ইনটেন্স লুকের ছবি। কেউ কেউ আবার এটিকে ঢালিউডের গ্যাংস্টার জনরায় নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার এক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

সিনেমা–বিশেষজ্ঞ ও অনলাইন রিভিউ চ্যানেলগুলো টিজার বিশ্লেষণ করে বলছেন, যদি চিত্রনাট্য ও নির্মাণ গুণগত মান ধরে রাখতে পারে, তবে ‘প্রিন্স’ ঈদ মৌসুমে হলমুখী দর্শকদের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক