আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢালিউডের মেগাস্টার শাকিব খানের নতুন ছবি ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনায়। ছবিটির প্রি-ব্লাস্ট টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।
ঈদে বড় বাজেটের গ্যাংস্টার ড্রামা
নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নির্মিত হচ্ছে ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি বড় বাজেটের আরবান গ্যাংস্টার–ভিত্তিক অ্যাকশন ড্রামা, যার মূল পটভূমি ঢাকা শহরের অন্ধকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। আগামী ঈদুল ফিতর ২০২৬-এ ছবিটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রথম লুক পোস্টার প্রকাশের সময় শাকিব খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, “একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো—এবার শহর তার সত্যিকারের নায়ককে চিনবে! হিয়ার কামস দ্য মিথ ইন মোশন।” এ ক্যাপশন ঘিরেই ভক্তদের মধ্যে ছবিটিকে নিয়ে রহস্য ও আগ্রহ আরও বেড়েছে।
টিজার: অন্ধকার শহর, মিথিকাল অ্যান্টি–হিরো
সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত ‘প্রিন্স’ ছবির প্রি-ব্লাস্ট টিজারে দেখা যায়, গ্যাংস্টারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক অন্ধকার ও সহিংস ঢাকা শহর, যেখানে আইন নয়, বরং ভয়ের শাসন চলছে—এমন ইঙ্গিতবাহী ভিজ্যুয়াল ও ডায়লগ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, দ্রুত কাট, আগুনের শিখা আর অস্ত্রবহুল ভিজ্যুয়াল মিলিয়ে টিজারটি একটি স্টাইলাইজড, হাই-ওকটেন অ্যাকশন থ্রিলারের আবহ তৈরি করেছে।
এখানে শাকিব খানকে দেখানো হয়েছে এক রহস্যময়, প্রভাবশালী চরিত্রে, যিনি শুধু নায়ক নন, বরং শহরের ক্ষমতার ভারসাম্য নাড়িয়ে দেওয়ার মতো এক ‘ঝড়’—এমন ইঙ্গিত এসেছে টিজারের উপস্থাপনা থেকে। টিজারে পুরো গল্প খোলাসা না করেও ক্ষমতা, সাম্রাজ্য, আধিপত্য আর প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে রাখা হয়েছে।
কাস্ট, ক্রু ও চরিত্রের ইঙ্গিত
ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। তার বিপরীতে আছেন তাসনিয়া ফারিন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। আরও আছেন রিঙ্কু দাস, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, নাসির উদ্দিন খান, ইন্তেখাব আলমসহ একাধিক শিল্পী, যাদের উপস্থিতি টিজার ও প্রোমোতেও ধরা পড়েছে।
ইন্টারনেট–ভিত্তিক চলচ্চিত্র ডেটাবেস ও প্রযোজনা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ ও আরও কয়েকজন সহ–লেখক, যারা ঢাকার অপরাধ জগত ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে সিনেমাটিক ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্লটের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, ভক্তদের ধারণা—একজন ‘প্রিন্স’ নামের গ্যাং লিডার বা কিংপিনকে ঘিরেই গল্প এগোবে, যাকে ঘিরে শহরের ক্ষমতার নকশা বদলে যায়।
নির্মাতা ও নায়কের মন্তব্য
প্রথম পোস্টার উন্মোচনের সময় এক আলাপচারিতায় পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, “এটা আমার জন্য প্রথম বড় ক্যানভাসের সিনেমা। ‘প্রিন্স’ শুধু একটি চরিত্র না, ঢাকার এক সময়ের বাস্তবতা আর মিথ মিলে তৈরি করা এক জগৎ। বড় পর্দায় দর্শকদের জন্য কিছু আলাদা করতে চেয়েছি।”
শাকিব খানও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “দর্শকদের জন্য প্রতিবারই কিছু নতুন দেওয়ার চেষ্টা করি। ‘প্রিন্স’ সেই চেষ্টা থেকে জন্ম নেওয়া একটি প্রজেক্ট। ঈদেই দেখা হবে হলের পর্দায়।”
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
টিজার প্রকাশের পর থেকেই ইউটিউব, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ‘প্রিন্স’ নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এটি হতে পারে তার অন্যতম ডার্ক ও ইনটেন্স লুকের ছবি। কেউ কেউ আবার এটিকে ঢালিউডের গ্যাংস্টার জনরায় নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার এক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সিনেমা–বিশেষজ্ঞ ও অনলাইন রিভিউ চ্যানেলগুলো টিজার বিশ্লেষণ করে বলছেন, যদি চিত্রনাট্য ও নির্মাণ গুণগত মান ধরে রাখতে পারে, তবে ‘প্রিন্স’ ঈদ মৌসুমে হলমুখী দর্শকদের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে