এক বছরের বেশি সময় অপেক্ষমান আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের সুযোগ দেবে যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। আবাসন ও ভাতা খাতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ২১ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এর লক্ষ্য হলো হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা কমানো এবং তাদের নিজের খরচ নিজে বহন করতে দেওয়া এবং যারা আইন ভঙ্গ করবে, অবৈধভাবে কাজ করবে বা নিজের খরচ চালাতে পারবে, তাদের সরকারি আবাসন ও ভাতা বন্ধ করা হতে পারে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যারা আইন ভঙ্গ করেন, অনিয়মিতভাবে কাজ করেন বা নিজের খরচ নিজে বহন করতে পারেন, তাদের জন্য আগামী জুন থেকে সরকার প্রদত্ত আবাসন ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে যারা এক বছরের বেশি সময় ধরে আশ্রয় আবেদনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের শ্রমবাজারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এতে হোটেলে থাকা প্রায় ২১ হাজার আশ্রয়প্রার্থী কাজের সুযোগ পেতে পারেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের অধীনে আশ্রয়প্রার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও আবাসনের ব্যবস্থা করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে নতুন পরিকল্পনায় সেই ব্যবস্থা বাতিল করে শর্তসাপেক্ষ সহায়তা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যাদের প্রকৃত সহায়তার প্রয়োজন এবং যারা নিয়ম মেনে চলবেন, তারা সরকারি সহায়তা পাবেন। তবে যারা আইন বা নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল করা হবে। তিনি আরও বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের অবশ্যই দেশের আইন মেনে চলতে হবে এবং অবৈধভাবে কাজ করা যাবে না।
সরকারের এই পরিকল্পনার আরেকটি লক্ষ্য হলো আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা। তবে শরণার্থী সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, নতুন নীতির ফলে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা কিছু মানুষের জন্য বাসস্থান সংকট তৈরি হতে পারে।
এর আগে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখার বিষয়টি নিয়ে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ঘোষণা দেন, ২০২৯ সালের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে।
এছাড়া আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করতে নতুন একটি কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও জানিয়েছে সরকার। ডেনমার্কের নীতির আদলে তৈরি এই পরিকল্পনায় প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের পরিবারপ্রতি সদস্যকে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একটি পরিবার সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পেতে পারে। অন্যথায় তাদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই নীতিগত ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে, যখন লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ৬২৫টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম। তবে একই সময়ে অনিয়মিতভাবে দেশটিতে প্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজার ৪৯৭ জনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাত শতাংশ বেশি।










