শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান–যুদ্ধে ট্রাম্পের ‘কম খরচের’ হিসাব ভেঙে পড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৮:১২ পিএম
ইরান–যুদ্ধে ট্রাম্পের ‘কম খরচের’ হিসাব ভেঙে পড়ার শঙ্কা

বিদেশে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল ধারণা ছিল—এমনভাবে অভিযান চালানো হবে, যাতে খুব কমসংখ্যক মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও সীমিত প্রভাব পড়ে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের প্রথম দিকের ঘটনাবলি ইতিমধ্যে সেই ধারণাকে গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইরানে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি–বাজারে গ্যাসসহ জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে; প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ ডলার যুদ্ধব্যয়ে গুনছে ওয়াশিংটন।

ইরানে বেসামরিক প্রাণহানি ও যুদ্ধের বিস্তার

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বিচার বিমান হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে বলছে, এই হামলার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে; তবে মার্কিন নিজস্ব অনুসন্ধানেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রেরই এক সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন স্থল সেনা ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনি, কিন্তু হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন—দুই পক্ষই ভবিষ্যতে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করছে না। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত ‘খুব দ্রুত শেষ হওয়ার মতো কিছু নয়’; বরং তাঁর ভাষায়, ‘আমরা গতি কমাচ্ছি না, বরং আরও বাড়াচ্ছি’, এবং নতুন করে আরও বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে এসে পৌঁছাচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ট্রাম্পের আগের ‘দ্রুত সাফল্য’ আর বর্তমান বাস্তবতা

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অঙ্গনে দ্রুত ও সীমিত পরিসরের একাধিক অভিযানকে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের হিসেবে—ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা, ইয়েমেনে হুতি যোদ্ধাদের ওপর আঘাত, ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহজনক মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস, এবং ইরাক–নাইজেরিয়া–সোমালিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বোমা হামলা—এসব অপারেশন দ্রুত এবং তুলনামূলক কম খরচে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প শিবিরের দাবি, এসব অভিযানে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ও অর্থব্যয় ছিল ‘স্বল্পমাত্রার’ এবং রাজনৈতিক–কূটনৈতিক ফল তাদের পক্ষে গিয়েছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সর্বশেষ আগ্রাসন সে অর্থে ‘দ্রুত শেষ হওয়া’ কোনো মিশন হয়ে উঠছে না—এমন আশঙ্কা দিন দিন জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে যদি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তনের লক্ষ্য স্থির করে থাকে, তাহলে যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।

‘অনন্ত যুদ্ধের পথে’ যুক্তরাষ্ট্র?

কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা জ্যাসন ক্রো নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন আবারও ‘অনন্ত যুদ্ধের পথে’ পা বাড়াচ্ছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প নিজেই একসময় সেই ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, আবারও যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে ‘লাখো কোটি ডলার খরচ, হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি, কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাত এবং পুরো এক প্রজন্মের যুদ্ধ–অভিজ্ঞতা’ যুক্ত হবে—যা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানের জনগণকে নিজেদের দেশের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বটে, তবে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সশস্ত্র শক্তিকে সরাসরি সমর্থন দেননি। এ পর্যন্ত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, কিন্তু ইরানি সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনায় ট্রাম্প রাজি হননি বলেই হোয়াইট হাউসের দাবি।

‘কম খরচে দ্রুত বিজয়’–এর স্বপ্ন ভাঙছে?

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক গবেষণা সহযোগী জন হফম্যান মনে করেন, ট্রাম্প মূলত ‘কম খরচে চমকপ্রদ বিজয়’ পছন্দ করেন। তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলা–অভিযানের পর ট্রাম্প বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং নিজেকে অনেকটা ‘ধরাছোঁয়ার বাইরে’ ভেবেছিলেন—কারণ স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মৌলিকভাবে ভিন্ন; এখানে যুদ্ধব্যয় ও মানবিক খরচ দুটোই দ্রুত বাড়ছে, যা ট্রাম্পের প্রাথমিক হিসাবকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

হফম্যান উল্লেখ করেছেন, ইরান–সংঘাতের শুরুতেই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে দ্রুত ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে; তাঁর ভাষায়, ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে এবং সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কম খরচে যুদ্ধ’ ধারণার সঙ্গে যায় না এবং দেশীয় রাজনীতিতেও তা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

‘উচ্চ লাভ বনাম উচ্চ ঝুঁকি’–র দ্বন্দ্ব

মার্কিন চিন্তন প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস–এর জ্যেষ্ঠ ফেলো এলিয়ট আব্রামস ইরানে কড়া সামরিক অভিযানকে এখনো ‘লাভজনক বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। আব্রামস বলেন, এ পর্যন্ত যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—যেমন মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি—তা ‘দুঃখজনক’ হলেও দীর্ঘমেয়াদে ‘লাভের পরিমাণ বেশি’ হতে পারে; কারণ, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী চার দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং কখনো কখনো তাতে সফলও হয়েছে।

তাঁর মতে, যদি ট্রাম্প স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যেতে পারেন, তাহলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি সীমিত রাখা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত বা অন্তত তাদের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল করা গেলে, শেষ পর্যন্ত তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে। আব্রামসের ভাষায়, এমনকি যদি শাসকগোষ্ঠীর কিছু অংশ ক্ষমতায় থেকে যায়, তবুও তাদের হাতে কার্যকর পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প বা আঞ্চলিক ক্ষমতা প্রদর্শনের সক্ষমতা থাকবে না—এটিই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অস্থিতিশীল ইরান: আরও বড় বিপদের আশঙ্কা

অন্যদিকে জন হফম্যান মনে করেন, ইরানের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা রাখা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, যদি বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে গোপনে অস্ত্র সরবরাহ করা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়, তাহলে তা শুধু নজিরবিহীন মাত্রার ‘ছায়া যুদ্ধ’–এর জন্ম দেবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আগুনে ঠেলে দেবে।

হফম্যান সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক শরণার্থীপ্রবাহ শুরু হতে পারে, আইএসআইএস–এর মতো সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর জন্য আবারও ‘সময় ও স্থান’ তৈরি হয়ে যেতে পারে—কারণ এ ধরনের গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতাশূন্যতা থেকে লাভবান হয়। তাঁর ভাষায়, ‘আপনারা আসলে অশান্তির এক বিশাল ঝাঁপি খুলে দিচ্ছেন’, যার মাশুল দিতে হবে শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রকে নয়, পুরো অঞ্চলকেও।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক