শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের বিমানবন্দরে হামলা: ইরানের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম
নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের বিমানবন্দরে হামলা: ইরানের দাবি

ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক টার্মিনাল বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লব গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন ঘাঁটি এবং শহরের ওপর চালানো সাম্প্রতিক হামলায় ‘নতুন প্রজন্মের’ ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য হিসেবে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, হাইফা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনার নাম উল্লেখ করেছে আইআরজিসি।

আইআরজিসির বিবৃতি কী বলছে

আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ট্রু প্রমিস’ শিরোনামের ধারাবাহিক অভিযানের ২২তম ধাপে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে খাইবার, খোররামশাহর–৪ এবং ফাত্তাহসহ নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, তেল আবিব, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। আইআরজিসি আরও বলেছে, এ সব আঘাতের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যূহ এখনো অক্ষুণ্ণ এবং পশ্চিমা গণমাধ্যম যে ‘ইরানের সামরিক ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে’—এমন ধারণা ছড়াচ্ছে, তা সঠিক নয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইরানের রাষ্ট্রীয়মুখী সংবাদমাধ্যম ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রকাশিত আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনের সমন্বিত আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই হামলা সাম্প্রতিক মার্কিন–ইসরায়েলি বোমা হামলার ‘সরাসরি প্রতিশোধ’।

ইসরায়েলি পক্ষের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি স্বীকার করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে সামরিক বাহিনী ও সরকার–ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটকেছে; কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানার চেষ্টা করলেও বিমানবন্দর–সংলগ্ন অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু রক্ষা করা গেছে বলে দাবি তাদের। তবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর কিছু সময়ের জন্য বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয় এবং রানওয়ে ও অবকাঠামো নিরাপত্তা–ঝুঁকি যাচাইয়ে জরুরি তল্লাশি চালানো হয়।​​

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে সরাসরি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। বরং তারা বলছে, দেশজুড়ে বহুপদক্ষেপ প্রতিরক্ষাব্যূহ—এরো, ডেভিড’স স্লিংসহ—মোটের ওপর ‘কার্যকর’ ছিল এবং অধিকাংশ হামলাই সীমান্তের বাইরে বা প্রতিরক্ষা ঢালে ঠেকানো গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তেল আবিব ও আশপাশে সতর্কতা–সাইরেন বেজে ওঠার পর জনজীবন কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে, মানুষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে যায়।​​

উপসাগরীয় ঘাঁটি ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও এই ‘নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রের’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তালিকায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ভেতরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও স্বাধীন উৎস থেকে সব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, সিরিজ আকারে চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি বিশ্লেষণ বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ভেতরে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির জবাব হিসেবেই তেহরান এই অভিযান শুরু করেছে। এতে একদিকে যেমন ইরান তার ‘প্রতিরোধ সক্ষমতা’ প্রদর্শন করতে চাইছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোরও কৌশল দেখা যাচ্ছে।

বেসামরিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইসরায়েলের প্রধান আকাশ–দ্বার; দেশটির অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই টার্মিনাল দিয়েই পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক হামলা ও হুমকির প্রেক্ষাপটে আগের কয়েক দফা হুথি ও ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই এই বিমানবন্দরকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত বছর আলাদা এক ঘটনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হানার পর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক ইরানি হামলার দাবির পর জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যে ‘বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে; আগের অভিজ্ঞতার আলোকে অনেক সংস্থা তেল আবিবগামী ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক