শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বালেন্দ্র শাহের চমক, নেপালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম
বালেন্দ্র শাহের চমক, নেপালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

নেপালের চলমান সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও র‌্যাপার–তরুণ রাজনীতিক বালেন্দ্র (বালেন্দ্র) শাহ অভূতপূর্ব চমক দেখাচ্ছেন। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তাঁর দল জাতীয় রাজনীতিের বড় বড় দলকে পেছনে ফেলে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে এবং এককভাবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথেও তারা বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে। জাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি যেখানে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছেন, সেখানে বালেন্দ্র শাহ ক্রমান্বয়ে তাঁর ব্যবধান বাড়িয়ে নিচ্ছেন, যা নেপালের তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তরুণদের ভরসার নতুন মুখ

৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতিবিরোধী মনোভাবের পুঁজি করে তরুণদের কাছে এক ভিন্নধারার নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে ২০২২ সালে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে অপ্রত্যাশিত জয়ের পর থেকেই তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আসেন এবং ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় রাজনীতিতে সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিশ্লেষকদের মতে, শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের ক্ষোভ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রভাব এবং দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য—সব মিলিয়ে এই নির্বাচনে তিনি ‘অ্যান্টি–এস্টাবলিশমেন্ট’ এক প্রবল শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

র‌্যাপার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিক

বালেন্দ্র শাহ মূলত নেপালি হিপ–হপ বা ‘নেফহপ’ অঙ্গনের পরিচিত মুখ হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। ২০১৩ সালের দিকে আন্ডারগ্রাউন্ড র‌্যাপ ব্যাটল ও অনলাইন মিউজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন; ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘বলিদান’সহ তাঁর বেশ কিছু গানে দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা উঠে আসে, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক বার্তাবহ এই গানগুলোই পরে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য ভিত্তি তৈরি করে, কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা তরুণরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের অবস্থানকে মেলাতে শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বালেন্দ্র শাহ দ্রুতই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্স (টুইটার)–এ তাঁর মিলিয়ন ঘর ছুঁই–ছুঁই অনুসারী, যা তাঁকে প্রচলিত দলগুলোর তুলনায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগের এক বড় সুবিধা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারপর্বে লাইভ ভিডিও, র‌্যাপ পারফরম্যান্স ও পথসভায় তিনি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তরুণদের ‘চেঞ্জ–ক্যাম্পেইন’-এ যুক্ত করেন।

কাঠমান্ডুর মেয়র থেকে জাতীয় মঞ্চে

২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডু মহানগরীর মেয়র পদে জয় নিয়ে বালেন্দ্র শাহ নেপালের মূলধারার রাজনীতিতে ঝড় তোলেন। তিনি তখন দুই প্রধান দল—নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন–ইউএমএল–এর প্রার্থীদের বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে রাজধানীর কর্পোরেশন পরিচালনার দায়িত্ব নেন। মেয়র হিসেবে তাঁর মেয়াদকালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সড়ক ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগ্রাসী অবস্থান দেশজুড়ে আলোচিত হয়; একই সঙ্গে রূঢ় ব্যবহারের অভিযোগ, হকারদের উচ্ছেদ ও বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন নিয়ে কঠোরতা তাঁকে বিতর্কের মুখেও ফেলে।

২০২৬ সালের শুরুতে তিনি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় রাজনীতির নবীন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া দল জাতীয় স্বাধীনতা পার্টিতে (জাতীয় স্বাতন্ত্র্য পার্টি–ধাঁচের একটি শক্তি) যোগ দেন এবং এ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠে নামেন। এ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল যে পরিমাণ আসনে এগিয়ে আছে, তা নেপালের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দলগুলোর রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সমীকরণেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় সিনেমা নিষেধাজ্ঞা বিতর্ক

বালেন্দ্র শাহের নাম নেপাল–ভারত সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক রাজনীতির আলোচনাতেও বারবার উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় সিনেমা ‘আদিপুরুষ’-এ সীতাকে ভারতের কন্যা হিসেবে উল্লেখ করা সংলাপকে ঘিরে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং কাঠমান্ডু মহানগর এলাকায় সব হিন্দি সিনেমা প্রদর্শন বন্ধের ঘোষণা দেন। ওই সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘জনকী (সীতা) নেপালের কন্যা’—এই ঐতিহাসিক–ধর্মীয় বিশ্বাসকে অস্বীকার করে কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং বিতর্কিত সংলাপ না বদলালে হিন্দি ছবি চলবে না।

তাঁর এই অবস্থানের পর নেপালজুড়ে ‘আদিপুরুষ’ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; অনেক হল সকালবেলার শো বাতিল করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমর্থনে তরুণদের নানা বিক্ষোভও দেখা যায়। পরে চলচ্চিত্র নির্মাতারা সংলাপ পরিবর্তন করলেও আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্কের মধ্য দিয়ে বালেন্দ্র শাহ কিছু সময় পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন, যা তাঁকে একদিকে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রশংসা এনে দেয়, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিচার বিভাগের সঙ্গে টানাপোড়েন বাড়িয়ে দেয়।​

সামনে কী দেখছেন বিশ্লেষকরা

নেপালের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বালেন্দ্র শাহ ও তাঁর দলের এই উত্থান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দল–নির্ভর রাজনীতির ওপর তরুণ ভোটারদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। প্রাথমিক ফলাফল চূড়ান্ত হলে, তিনি সংসদে বড় একটি ব্লক গঠন করে সরকারের নেতৃত্বে আসার কিংবা জোট রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে তাঁর তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতা, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী অবস্থান ভবিষ্যতে নীতি–নির্ধারণে কতটা স্থিতিশীলতা আনতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক