ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র
ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার অতি সীমিত পদক্ষেপ নিয়েছে—এমন তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত ২০২৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বেআইনি বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিখোঁজ হওয়া, নির্যাতন, বেআইনি গ্রেপ্তার ও আটকসহ নানা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মণিপুর রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান কুকি ও হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান জাতিগত সংঘাত মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। যদিও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দুই পক্ষের মধ্যে বাফার জোন বজায় রেখেছে, গণমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে—২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সংঘাতে ৪৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সংঘাত নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ দমনে পুলিশ স্টান গান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে।
এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল মণিপুরে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে—বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিখোঁজ হওয়া, নির্যাতন, বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তঃদেশীয় দমন, সংঘাতে গুরুতর লঙ্ঘন, মাওবাদী গোষ্ঠীতে শিশুদের অবৈধ নিয়োগ, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকি, সেন্সরশিপ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও বন্ধ্যাকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব লঙ্ঘনে জড়িত কর্মকর্তাদের শনাক্ত ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদি সরকারের পদক্ষেপ অত্যন্ত সীমিত।
এ ছাড়া জম্মু-কাশ্মির, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মাওবাদী সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মিরে সন্ত্রাসীরা ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য ও ১৮ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত এসব অপরাধের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম কর্তৃপক্ষ অব্যাহত রেখেছে।










