যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে «আরো ছবি সংবাদে»
বৈরুত, লেবানন বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বোমা হামলার পর ধোঁয়া উড়ছে। ২ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে, লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধে নামে এবং সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত আকার নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা হামলা–পাল্টা হামলা শুরু হয়, যা কয়েক দিনের মধ্যেই আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আলজাজিরা জানিয়েছে, সংঘাত এখন একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির উদ্ধার সংস্থার বরাতে জানা গেছে, কয়েক শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, হাসপাতাল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাও আঘাতের শিকার হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি পক্ষ বলছে, তারা কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।

ইরানের পাল্টা আঘাতে ইসরায়েলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীরও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। কুয়েতে তিনটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট ক্রু সদস্যরা জীবিত আছেন।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোতেও। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও তেল শোধনাগার, কোথাও গ্যাস–সম্পর্কিত স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ছবি- ইন্টারনেট থেকে।
লেবাননেও উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। পাল্টা হিসেবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যে হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
সাইপ্রাসেও একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন আঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোউলিয়াস জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন সাইপ্রাসের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে উত্তর আটলান্টিক জোটের প্রধান মার্ক রুতে জানিয়েছেন, জোট হিসেবে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই।

ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলার পর রবিবার তেহরানের ভবনগুলির উপর ধোঁয়া উড়ছে
ছবি: রয়টার্স
ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কংগ্রেস সদস্যদের এক ব্রিফিংয়ে বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে তাৎক্ষণিক হামলা চালাতে যাচ্ছে—এমন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাদের হাতে ছিল না।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানও কঠোর হয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিদেশি সামরিক ঘাঁটিগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও তেহরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে আপাতত আপসহীন অবস্থানের ইঙ্গিত মিলছে।

নিলুফার স্কয়ারের আশেপাশের একটি পুলিশ কেন্দ্রে হামলার পর লোকজন পালিয়ে যাচ্ছে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান।
টানা কয়েক দিনের সংঘাতে ইরান, ইসরায়েল, লেবানন, কুয়েত, বাহরাইন ও অন্যান্য দেশে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।













