ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ‘বেঁচে নেই’-দাবি নেতানিয়াহুর, তেহরানের ভিন্ন বার্তা
ছবিঃ সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আর ‘বেঁচে নেই এমন লক্ষণ পাওয়া গেছে’ বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তিনি এখনো পর্যন্ত খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি এবং ইসরায়েলি পক্ষ থেকেও কোনো প্রমাণ উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে প্রচারিত সংক্ষিপ্ত ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ড “ধ্বংস হয়ে গেছে” এবং “অনেক লক্ষণ আছে যে তিনি আর বেঁচে নেই।” ইসরায়েলি গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছে, হামলার পর খামেনির মৃতদেহের একটি ছবি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যু স্বীকার করা হয়নি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি নিউজের লাইভ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বলেন, তাঁর জানা অনুযায়ী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান “জীবিত আছেন” এবং বেশিরভাগ শীর্ষ কর্মকর্তা নিরাপদ আছেন। তিনি বলেন, “আমার জানা পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা এখনো জীবিত। প্রায় সব উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।”
ইরানি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে এবং শুধু কয়েকজন সামরিক কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন। আরাগচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘সন্ত্রাসী আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলের প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানে টার্গেট করা কম্পাউন্ডে খামেনি “গুরুতরভাবে আহত” বা নিহত হতে পারেন; একই সঙ্গে তিনি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন আছেন বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্টসহ কয়েকটি ইসরায়েলি গণমাধ্যম। তেহরান বলছে, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক রেকর্ডিং প্রকাশ করা হবে, তবে এখন পর্যন্ত তা প্রকাশ করা হয়নি, যা জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, খামেনি আসলেই নিহত হয়ে থাকলে তা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক মহল এখন পর্যন্ত ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি অনুসরণ করছে এবং কোনো পক্ষই নিশ্চিতভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর স্বীকার বা অস্বীকার করেনি










