শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্পেনে অভিবাসীদের বৈধতা দেবার ঘোষণা: সুখবরের সঙ্গে আছে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ এম
স্পেনে অভিবাসীদের বৈধতা দেবার ঘোষণা: সুখবরের সঙ্গে আছে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিতে যাচ্ছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের আওতায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ আইনি কাঠামোর মধ্যে আসতে পারেন।

বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয় ও নেপালি কমিউনিটিসহ অনিয়মিত সকল অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, রেস্তোরাঁ, ডেলিভারি, গার্মেন্টস সরবরাহ চেইন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গৃহস্থালি খাতে অনিয়মিত অবস্থায় কাজ করে আসছে। তাদের অনেকেই বছরের পর বছর কর পরোক্ষভাবে দিলেও আইনি পরিচয় না থাকায় রাষ্ট্রীয় সেবার বাইরে ছিলেন। এই উদ্যোগ তাদের জন্য কেবল কাগজপত্র পাওয়ার সুযোগ নয়; সামাজিক স্বীকৃতি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীল করার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি

ঘোষণার পর মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্স–এ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে—নিয়মিত হওয়া অভিবাসীরা নাকি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন এবং সরকার নতুন ভোটার তৈরির রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে। এই বিভ্রান্তি দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির ভেতরও দ্রুত ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন কাগজ পেলেই নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার মিলবে, যা বাস্তবে সঠিক নয়। ফলে অভিবাসন–সংক্রান্ত পরামর্শদাতা, কমিউনিটি সংগঠন এবং মসজিদ–কেন্দ্রিক সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো এখন তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কারা আবেদন করতে পারবেন

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকে যারা স্পেনে বসবাস করছেন এবং আবেদন করার সময় টানা অন্তত পাঁচ মাস অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন, তারা এই সুযোগ পাবেন। দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে বাসা ভাড়া চুক্তি না থাকা, অন্যের কাগজে থাকা, নগদ লেনদেন বা অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত থাকার কারণে বসবাসের প্রমাণ দেখানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই পাদরোন, রেমিট্যান্স রেকর্ড, চিকিৎসা নথি, সন্তানের স্কুলের কাগজ, এনজিও–সংযুক্তি—এসব নথি সংগ্রহ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হওয়া চলবে না। একই সময়ের আগে আশ্রয়ের আবেদনকারীরাও এর আওতায় থাকবেন। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের কথা রয়েছে।

দক্ষিণ এশীয় শ্রমবাজার বাস্তবতা

স্পেনের কৃষি, নির্মাণ, হোটেল–রেস্তোরাঁ, লোকাল বাজার, কনভিনিয়েন্স শপ, কাবাব–পিজ্জা ব্যবসা, ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম—এসব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। অনেকেই দিনে ১০–১২ ঘণ্টা কাজ করেও শ্রমচুক্তি পান না, দুর্ঘটনায় পড়লে চিকিৎসা সুবিধা পান না, মজুরি নিয়ে আইনি লড়াই করার সুযোগ থাকে না। নিয়মিত হওয়ার ফলে এই চক্র ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হবে। নিয়োগকর্তারাও বৈধভাবে চুক্তি করতে বাধ্য হবেন।

বসবাসের আইনি ভিত্তি, স্থায়ী অনুমতি নয়

আবেদন মঞ্জুর হলে প্রথম ধাপে এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরে সাধারণ অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী নবায়নের পথ বেছে নিতে হবে। দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্য এর অর্থ—বছরের পর বছর “সিন পাপেলেস” অবস্থায় থাকার অনিশ্চয়তা থেকে বের হয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বৈধ বাসা ভাড়া নেওয়া, ব্যবসা নিবন্ধন করা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়ায় ঢোকা—এসব বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত হওয়ার পর থেকেই বৈধ বসবাসের সময় গণনা শুরু হবে, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

কাজের বৈধ অধিকার ও শ্রমবাজারে প্রভাব

আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর থেকেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাজ করার বৈধ সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ এশীয়দের একটি বড় অংশ বর্তমানে ভুয়া বা ধার করা কাগজে কাজ করেন; এতে শোষণের ঝুঁকি বেশি থাকে। বৈধ কাগজ পেলে ন্যূনতম মজুরি, কর্মঘণ্টা, ছুটি, ওভারটাইম—এসব আইনি অধিকার দাবি করা সম্ভব হবে। সামাজিক নিরাপত্তায় অবদান রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বেকার ভাতা, অসুস্থতা ভাতা ও পেনশন পাওয়ার পথও খুলবে।

পরিবার পুনর্মিলনের সম্ভাবনা

অনেক অভিবাসী বছরের পর বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। নিয়মিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পরিবার পুনর্মিলনের আবেদন করা যাবে। এতে স্ত্রী–সন্তানকে বৈধভাবে স্পেনে আনার পথ তৈরি হবে, যা কমিউনিটির সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভবিষ্যৎ

দক্ষিণ এশীয় পরিবারের যেসব সন্তান ইতোমধ্যে স্পেনে রয়েছে, তাদের জন্য পাঁচ বছরের বসবাসের অনুমতির সম্ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্কুল–কলেজে পড়াশোনা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুই স্থায়ী কাঠামোর মধ্যে আসবে। অনেক শিশু যারা এতদিন ভয়ের মধ্যে বড় হয়েছে, তাদের জন্য এটি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ।

নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে বাস্তবতা

নিয়মিত হওয়া মানেই নাগরিকত্ব নয়। সাধারণ নিয়মে ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়—যা দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত জাতীয় বা আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে “কাগজ পেলেই ভোট” —এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

কমিউনিটি অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে প্রভাব

বৈধ কাঠামোয় এলে লোকুটোরিও, গ্রোসারি, রেস্তোরাঁ, মোবাইল শপ ব্যবসা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতে পারে। —ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া সহজ হবে, ঋণ নেওয়া যাবে, এতে স্পেনের স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সও বাড়তে পারে।

এখনও যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

আইন চূড়ান্ত না হওয়ায় আবেদন পদ্ধতি, কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, অনলাইন না সরাসরি আবেদন—এসব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও আইনি প্রক্রিয়া বোঝার অভাব বড় বাধা হতে পারে। তাই কমিউনিটি সংগঠন, আইনজীবী ও এনজিও–ভিত্তিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০০৫ সালের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা

২০০৫ সালে নিয়মিতকরণের সময়ও দক্ষিণ এশীয়দের একটি বড় অংশ বৈধতা পেয়েছিল, যার ফলে ছোট ব্যবসা বেড়েছিল এবং স্থায়ী বসবাসের পথ তৈরি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসস্থান সংকট, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রশাসনিক চাপ থাকলেও শ্রমিক ঘাটতি এবং বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে অভিবাসীদের বৈধ কাঠামোয় আনা অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বোপরি, অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়—বরং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর সামাজিক স্বীকৃতি, শ্রমের মর্যাদা, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তবে সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি, নথি প্রস্তুতি, সময়মতো আবেদন এবং বৈধ কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার ওপর।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক