শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি উপকূলে ভূমধ্যসাগরে আবার লাশের মিছিল

ইতালির বিভিন্ন উপকূলে ভেসে আসছে অন্তত ১৫ মরদেহ, সেন্ট্রাল রুটে নতুন করে কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজের আশঙ্কা।

ইতালি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:২০ এম
ইতালি উপকূলে ভূমধ্যসাগরে আবার লাশের মিছিল

গত কয়েকদিনে ইতালির বিভিন্ন উপকূলে ভেসে আসা অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতালির সিসিলি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়ার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন অংশ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, শীতকালীন ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল সাগরে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নৌকা ডুবির এক বা একাধিক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

কালাব্রিয়ার সমুদ্রসৈকত শহর ত্রোপিয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম একটি মরদেহ দেখতে পান বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও তার পরনে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট ছিল, যা বহু সময় সমুদ্রপথে যাত্রাকারী অভিবাসীদের ব্যবহৃত জ্যাকেটের ধরনের সঙ্গেই মিলে যায়। একই এলাকায় পরিচয়পত্রবিহীন এক নারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য নৌকাডুবির উৎস অনুসন্ধানে প্রসিকিউটররা তদন্ত শুরু করেছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইতালির ছোট দ্বীপ পান্তেলেরিয়াসহ আরও কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায়ও একই সময়ে একাধিক মরদেহ ভেসে এসেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটটি বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই রুটে আবহাওয়া ছিল বিশেষভাবে প্রতিকূল; প্রবল ঢেউ, তীব্র শীত ও ঝড়ো হাওয়া একসঙ্গে থাকায় নৌযান চলাচলের জন্য সমুদ্র অনিরাপদ হয়ে ওঠে। তবু লিবিয়া ও টিউনিশিয়ার উপকূল থেকে পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী সমুদ্র অনুপযোগী, পুরোনো এবং ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী বোঝাই নৌকায় করে যাত্রা করেন।

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারকাজে সক্রিয় এনজিও ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, চলতি শীত মৌসুমেই কয়েক শ মানুষ নৌকাডুবিতে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধারকার্যে অংশ নেওয়া কোস্ট গার্ড, বেসামরিক মাছধরা ট্রলার ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জাহাজ বহু সময় দুর্ঘটনার পর শুধু মরদেহই উদ্ধার করতে পারছে, জীবিত কাউকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা–আইওএম–এর সর্বশেষ ধারণা অনুযায়ী, শুধু চলতি বছরের শুরুতেই, অর্থাৎ জানুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সমন্বিত বিশ্লেষণ থেকে ২৬ জানুয়ারি সংস্থাটি জানায়, জানুয়ারির ২৩ ও ২৫ তারিখে অন্তত তিনটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে এবং এসব দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইওএম-এর হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অন্তত এক হাজার ৩৪০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের সমুদ্রপথে ডুবে বা নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যা ৩৩ হাজারেরও বেশি, যা আধুনিক সময়ের এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে।

শিশু ও নারীদের ঝুঁকি এই রুটে সবচেয়ে বেশি বলে সতর্ক করেছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানুয়ারিতে এক বিবৃতিতে বলেছিল, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় যারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা এখনও প্রাণঘাতী ও বিপজ্জনক এই যাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন।

ইতালিসহ ইউরোপের উপকূলে বারবার ভেসে আসা অসংখ্য অচেনা মরদেহ সেই ঝুঁকির নির্মম প্রমাণ রেখে যাচ্ছে। শীতের প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি উল্টে যাওয়া নৌকা ও প্রতিটি অজানা কবর নতুন করে প্রশ্ন তুলছে–নিরাপদ ও বৈধ পথের দ্বার বন্ধ রেখে কতদিন এমন মৃত্যুমিছিল চলতে থাকবে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক