জামায়াত আমিরের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে তারেক রহমান
ছবিঃ সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় প্রবেশ করেন তিনি; এর আগে গুলশানের বাসা থেকে তিনি সেখানে রওনা হন। নির্বাচন পরবর্তী এই সাক্ষাৎকে চলমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনায় সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি, আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে জয় পেয়েছে একসময়ের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনে একই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে ‘নির্বাচন–পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস উইং। দলীয় সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও, সরকার গঠন, সংসদে কৌশলগত সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন সংগ্রামের রূপরেখা নিয়েও পরোক্ষভাবে মতবিনিময় হতে পারে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সেখানে কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, আসন সমীকরণ, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন, সম্ভাব্য আইন সংস্কার, এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘ সময়ের টানাপোড়েনের পর বিএনপি–জামায়াতের মধ্যে ‘সমঝোতামূলক সহাবস্থান’ তৈরির পথে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
জামায়াতের আমিরের বাসা থেকে বেরিয়ে আজ রাত ৮টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। নাহিদ ইসলাম রাজধানীর বেইলি রোড এলাকায় বসবাস করেন; প্রায় একই সময়সূচিতে জামায়াত ও এনসিপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠককে নির্বাচন পরবর্তী ‘রাজনৈতিক কূটনীতি’র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে এনসিপি নেতৃত্ব নির্বাচনী সংস্কার, বিচার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে যে শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছিল, সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরকে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনায় আস্থা সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিশ্লেষণ করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি দুই দলই সাম্প্রতিক সময়ের গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি তাদের সমালোচনামুখর অবস্থানও প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে নির্বাচনের পরপরই বিএনপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎকে বিরোধী শিবিরের ভেতরে সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলার এক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী সংসদীয় রাজনীতির ক্ষমতাবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, আজকের এই বৈঠকগুলোতে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত সমঝোতা না হলেও ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়ন, আন্দোলন ও সংসদীয় কৌশল নিয়ে ‘সাধারণ বোঝাপড়া’ তৈরির চেষ্টা থাকবে।










