স্পেন সরকার ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু সন্তানদের মাসে ২০০ ইউরো করে ভাতা দেবে
স্পেন সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত এই পরিকল্পনায় মোট ১০০টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্য পরিবারকে মাসে ২০০ ইউরো করে সার্বজনীন শিশু লালন-পালন ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা।
এই ভাতা সব পরিবারের জন্য প্রযোজ্য হবে, আয়ভেদে কোনো পার্থক্য থাকবে না। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু দারিদ্র্য কমানো, আয় বৈষম্য হ্রাস এবং কম আয়ের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চরম শিশু দারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল করা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইউনিসেফ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাসে ২০০ ইউরো ভাতা চালু হলে শিশু দারিদ্র্য ৭ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে এবং এর ফলে পাঁচ লাখের বেশি শিশু দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে।
একই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, মাসে ১০০ ইউরো ভাতা দিলেও প্রায় দুই লাখ সত্তর হাজার শিশু দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবে। সামাজিক অধিকারমন্ত্রী পাবলো বুস্তিনদুই বলেন, এই ভাতা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের জন্য সরকার আশাবাদী এবং এর প্রভাব স্পেনের সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।
যুব ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী সিরা রেগো জানান, স্পেনে শিশু দারিদ্র্যের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ হাজার কোটি ইউরো ক্ষতি হয়, অথচ এটি দূর করতে প্রয়োজন হবে মাত্র ১১ থেকে ১৫ হাজার কোটি ইউরো, যা বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য। কৌশলগত এই পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য ১০ শতাংশ কমানো, নারীদের খণ্ডকালীন চাকরির হার হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে।
শিক্ষা খাতে স্কুলত্যাগের হার কমিয়ে ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও উন্নত কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে প্রতিবন্ধী নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আবাসন খাতে আগামী চার বছরে সরকারি বিনিয়োগ তিনগুণ করে ৭ হাজার মিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করা এবং ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন ৫ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন আবাসনের ১০ শতাংশ ভাড়া বাজারে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৫ সালের আগের কৌশলগত পরিকল্পনার পরিবর্তে এই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এখনো এর জন্য নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।













