শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটের ময়দানে কথার লড়াই

তারেক রহমান বনাম শফিকুর রহমান: কে পাচ্ছেন ভোটারদের আস্থা?

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ এম
তারেক রহমান বনাম শফিকুর রহমান: কে পাচ্ছেন ভোটারদের আস্থা?

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। রাজপথের কর্মসূচি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন দুটি নাম: বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কে হবেন আগামী দিনের রাষ্ট্রক্ষমতার চালক—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে অনেকেই দেখছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় হিসেবে। দীর্ঘদিন পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে।

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিএনপির জনসভাগুলোতে তার উপস্থিতিতে বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্তৃতায় তিনি ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠনের সুযোগ।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ এবং নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর তার সরাসরি মাঠে নামা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে ‘ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার কথা। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তরুণ ভোটারদের কাছে কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোচ্ছে, দুই নেতার বক্তব্যেও তীব্রতা বাড়ছে। তারেক রহমান অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপিকেই শাসনের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করছেন। বিপরীতে, ডা. শফিকুর রহমান বলছেন—যারা অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, জনগণ তাদের আর সুযোগ দেবে না।

বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন এগিয়ে আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে জামায়াতের রয়েছে একটি দৃঢ় ও সংগঠিত ভোটব্যাংক, যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাধারণ ভোটারদের বড় অংশের প্রত্যাশা এখন স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তারা দেখছেন ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বড় দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা। অপরদিকে, ডা. শফিকুর রহমানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সংগঠিত দলীয় কাঠামো তাকে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছে।

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াত-জোটের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই নির্ধারণ করবেন—কার হাতে যাবে আগামীর বাংলাদেশ।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক