শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: খামেনির শাসন কি চ্যালেঞ্জের মুখে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: খামেনির শাসন কি চ্যালেঞ্জের মুখে?

ইরানে নতুন বছরের বিক্ষোভ এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন দেশটি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভরা একটি বছর শেষ করেছে।

২০২৫ সালে ইসরায়েল ইরানের ওপর টানা ১২ দিনের হামলা চালায়। এতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, ইসফাহান ও নাতানজে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

বছরের শেষ দিকে রাজধানী তেহরানসহ মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত এই আন্দোলন চলতে থাকে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইরানে বিক্ষোভ নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশটিতে হাজার হাজার আন্দোলন হয়েছে। কখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা, কখনো আবার অর্থনৈতিক সংকট এসব আন্দোলনের মূল কারণ হয়েছে।

ইরানে আন্দোলন বারবার ফিরে আসে মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পারস্পরিক প্রভাবের কারণে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে।

২০২৫ সালের শেষের দিকের বিক্ষোভ শুরু হয় ব্যবসায়ী ও বাজার মালিকদের ধর্মঘটের পর। ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত কমে যাওয়ায় তারা রাস্তায় নামেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ইরানি রিয়ালের প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্যপতন এবং বেকারত্ব বেড়ে ৭.৫ শতাংশে পৌঁছানো এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এর আগেও অর্থনৈতিক কারণে ইরানে অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০০৮ সালে মূল্য সংযোজন কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাজারে আন্দোলন শুরু হলে তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ২০১০ সালেও আয়কর ৭০ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয় জনরোষের মুখে।

ইরানের প্রায় সব আন্দোলনেই অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি সামাজিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক হিজাব আইন এর বড় উদাহরণ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এই ইস্যুতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, যা সরকারের ব্যাখ্যায় জনগণের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

তবে এসব আন্দোলনের পরও কাঠামোগত কোনো বড় সংস্কার হয়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খাত গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু পারমাণবিক সংকট ঘনীভূত হওয়ায় তা সফল হয়নি।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকার তেলের আয় সরাসরি জনগণের মধ্যে বিতরণের নীতি নেয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী গোষ্ঠীর বিরোধিতা ও জাতিসংঘের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে এই নীতিও ব্যর্থ হয়। এসব নিষেধাজ্ঞা বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ কঠিন করে তোলে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কতটা দায়ী নিষেধাজ্ঞা, আর কতটা দায়ী দুর্বল শাসনব্যবস্থা?

ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে, যা ১৯৮০ সালের পর থেকে আর সমাধান করা হয়নি। আদর্শিক অগ্রাধিকার অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বাধা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল না মেলায় দেশটি আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তীব্র হয়।

চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বও ইরানের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পারেনি। এসব সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জনগণ মনে করে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাই অর্থনৈতিক দুরবস্থার অন্যতম কারণ। লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে “গাজা নয়, লেবানন নয়—ইরানের জন্য আমার জীবন” স্লোগান বহুবার শোনা গেছে।

তবে ২০২৫ সালের পর থেকে এই যুক্তি কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমে গেছে এবং কিছু সামরিক কর্মকর্তাই এখন সিরিয়ার কাছে বিপুল অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। এমনকি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করা যাবে না—শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাও বড় কারণ।

বর্তমানে ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেখা যাচ্ছে। একদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অর্থনৈতিক দুর্বলতার দায় স্বীকার করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। এই দ্বন্দ্ব রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং সরকার ও সমাজের দূরত্ব বাড়াচ্ছে।

ইসরায়েলের সামরিক আত্মবিশ্বাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংসের চিন্তাও আলোচনায় এসেছে। এমন সংঘাত ইরানকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ চাপ একসময় শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে—যা ধীরে হলেও পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে ফেলছে।


(তথ্যসূত্র- আলজাজিরায় প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্য–বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহজুব জুইরির (Mahjoob Zweiri) লেখা নিবন্ধ অবলম্বনে।)

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক