শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বার্সেলোনায় মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান: ৭২ গ্রেপ্তার, ১৩ নারকোপিসো সিলগালা

▪️ নাগরিকদের অভিযোগের সূত্র থেকে ১০ মাস ধরে তদন্ত করে পুলিশ।▪️ অভিযানে প্রায় ২০০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন।

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:২২ এম
বার্সেলোনায় মাদকবিরোধী চিরুনি অভিযান: ৭২ গ্রেপ্তার, ১৩ নারকোপিসো সিলগালা

বার্সেলোনার কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী এক বৃহৎ অভিযান চালিয়েছে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ মোসোস দ’এস্কুয়াদ্রা, গার্দিয়া উরবানা, এবং শহর পুলিশের সদস্যরা। সোমবারের এই যৌথ অভিযানে মোট ১৩টি নারকোপিসো (মাদক বিক্রি ও সেবনের ফ্ল্যাট) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ফ্ল্যাট সিউতাত ভেল্লা (Ciutat Vella) অঞ্চলে এবং বাকি তিনটি সানৎস-মন্তজুইক (Sants-Montjuïc) ও আইশ্যামপ্লা (Eixample) এলাকায় অবস্থিত ছিল।

অভিযানে প্রায় ২০০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। এ সময় তারা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন এবং বেশ কিছু মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। পুলিশের হিসাবে, অভিযানটি এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতের নির্দেশে কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

মাদক, টাকা ও নজরদারি ক্যামেরা উদ্ধার:

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পুলিশ জানায়, আটক নারকোপিসোগুলো থেকে হেরোইন, ক্র্যাক, মারিজুয়ানা ও হাশিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে। কিছু ফ্ল্যাটে অনেক টাকাও উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে আরও দেখা যায়, কিছু মাদক বিক্রির ফ্ল্যাটে বাইরের রাস্তা পর্যন্ত দেখা যায় এমন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল, যাতে ভেতরের লোকজন দেখতে পারে কে দরজায় আসছে। পুলিশের মতে, এটি ছিল গ্রাহকদের চেনার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি কৌশল।

দুপুরে অভিযান, কারণ তখনই সবচেয়ে বেশি ক্রেতা আসে:

তদন্তে জড়িত সূত্র জানায়, অভিযানটি সকালবেলায় নয়, বরং দুপুরে চালানো হয়। কারণ, এই সময়টাতেই ক্রেতারা বেশি আসে এবং মাদক বিক্রির কার্যক্রম সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।

অভিযান পরিচালনা করে মোসোস দ’এস্কুয়াদ্রার পাবলিক হেলথ ইউনিট, যারা গার্দিয়া উরবানার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট, কুকুর ইউনিট, মোটরসাইকেল টিম, নিরাপত্তা বাহিনী (ARRO)– সবাই অংশ নেয়।

নাগরিকদের অভিযোগের সূত্র থেকে ১০ মাস ধরে তদন্ত:

এই তদন্তের সূচনা হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ জানতে পারে যে কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে মাদক বিক্রি হচ্ছে।

ইন্সপেক্টর প্যাট্রিসিয়া দুরান, যিনি সিউতাত ভেল্লা থানার উপপ্রধান, বলেন—
“আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ খুবই ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছিন্ন। তাদের সহযোগিতার কারণেই আমরা এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। বন্ধ করা নারকোপিসোগুলো ছিল অত্যন্ত সক্রিয়।”

মাদক ব্যবসার সঙ্গে নাগরিক জীবনের সম্পর্ক:

কার্লোস আলকারাজ, সিউতাত ভেল্লা থানার গার্দিয়া উরবানার প্রধান, বলেন—
“একটি মাদক বিক্রির জায়গা শুধু একটি ভবনের বাসিন্দাদের জন্যই নয়, বরং আশপাশের দোকানপাট ও সাধারণ মানুষের জন্যও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাদকসেবীরা প্রায়ই নিজেদের ডোজ কেনার জন্য চুরি বা ছিনতাই করে। তাই একবার কোনো নারকোপিসো শনাক্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব তা বন্ধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

সিটি কাউন্সিলের প্রশংসা ও সতর্ক বার্তা:

বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-মেয়র ও সিউতাত ভেল্লার কাউন্সিলর আলবার্ত বাতিয়ে, অভিযানের প্রশংসা করে বলেন—
“মাদকবিরোধী এই লড়াই পুলিশ, আদালত ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। এটি নাগরিকদের জন্য একটি বার্তা— যে বার্সেলোনায় অপরাধীরা কোনোভাবেই অদণ্ডিত থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“মাদক ব্যবসা এমন এক সাতমাথা বিশিষ্ট দানবের মতো, যার একটি মাথা কাটা গেলেই আরেকটি গজায়। তবে এই লড়াই থেমে থাকবে না, কারণ মাদকই অনেক অপরাধের মূল উৎস।”

এ বছর ৭২ জন গ্রেপ্তার, ৫১টি নারকোপিসো বন্ধ:

সম্প্রতি সিউতাত ভেল্লা অঞ্চলের স্থানীয় নিরাপত্তা বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং ৫১টি নারকোপিসো বন্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া আরও ৭টি ক্যানাবিস ক্লাব, যেগুলো আড়ালে মাদক বিক্রি করত, সেগুলোতেও অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাগরিক সহযোগিতার কারণেই সাফল্য:

পুলিশ জানায়, নারকোপিসো বা মাদক বিক্রির ফ্ল্যাটগুলো শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, বরং চুরি, ছিনতাই, প্রতিবেশীদের হয়রানি, ও দোকানপাটে ক্ষতি— এসব সমস্যাও সৃষ্টি করে। তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় নাগরিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

সিউতাত ভেল্লার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে বিশেষভাবে বলা হয় যে, নাগরিকদের অভিযোগ, সতর্কতা ও তথ্য প্রদান পুলিশের কাজকে সহজ করে তুলেছে।
বার্সেলোনার কেন্দ্রাঞ্চলে এই মাদকবিরোধী অভিযান শুধু অপরাধ দমনে নয়, বরং নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
পুলিশ, সিটি কাউন্সিল ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত এই উদ্যোগ শহরবাসীর কাছে এক নতুন আস্থার বার্তা দিয়েছে যে,
বার্সেলোনাকে মাদকমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক