ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াভহ আগুন: বিমান চলাচল বন্ধ
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ — আজ দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিকেল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ৩০টিরও বেশি ইউনিট, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবন্দরের নিজস্ব দমকল দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে গেছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগে বিমানবন্দরের গেট নম্বর ৮–এর পাশের কার্গো ভিলেজ এলাকায়, যেখানে আমদানি করা পণ্য সামগ্রী সংরক্ষিত থাকে। বিকেল ২টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আগুন দেখা যায় এবং মুহূর্তেই তা গুদাম ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। গুদামের ভেতরে দাহ্য পণ্য ও প্যাকেজিং সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের ধোঁয়া দূর থেকে দেখা যাচ্ছে, এমনকি বিমানবন্দরের রানওয়েতেও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে ধোঁয়ার কালো মেঘ।
বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “জনগণ ও গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছি, কেউ যেন আতঙ্ক ছড়ায় না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেই আমরা ধাপে ধাপে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু করব।” ইতোমধ্যে যেসব ফ্লাইট ঢাকায় নামার কথা ছিল, সেগুলোকে চট্টগ্রাম ও কলকাতা বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি ট্যাক্সিওয়েতে থাকা বিমান আপাতত স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর দুইটি প্লাটুন বিমানবন্দর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো গুদামে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
বিমানবন্দরের একাধিক গুদাম ও পণ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কার্গো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও কার্গো মালিকদেরও পণ্য ট্র্যাকিং ও ক্ষতির হিসাব নিতে বলা হয়েছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দেশের বিমান পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে রাতভর কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরই তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানবন্দরে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগুন এখনো পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি, তবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। চারপাশে প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বিমান চলাচল ধীরে ধীরে পুনরায় শুরু করা হবে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু যাত্রী তাদের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের খবর জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হলেও প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইতিহাসে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ড, যা দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।










