শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইনানীতে গ্যাসের আগুন চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ১৪৪ ধারা জারি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ পিএম
ইনানীতে গ্যাসের আগুন চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ১৪৪ ধারা জারি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে সৃষ্ট আগুন টানা চার দিনেও নেভানো সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পুরো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে লাল পতাকা চিহ্নিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস নির্গমনের উৎস ও তার প্রকৃতি অনুসন্ধানে নমুনা সংগ্রহের পর অন্তত ১৫ দিন এর প্রবাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ছোটখাল সেতুর পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। একই দিন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দিয়ে আগুন জ্বালানো, ধূমপান বা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে—এমন সব কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিশেষজ্ঞ দলগুলোর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এখনই আগুন নেভানোর চেষ্টা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোড়পূর্বক গ্যাসের পথ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে অথবা অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস ছড়িয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে পুরো এলাকাকে ‘রেড জোন’, ‘নো ফায়ার জোন’ ও ‘অবজারভেশন জোন’—এই তিন স্তরের সুরক্ষাবলয়ে ভাগ করে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সকালে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় এক হাজার ফুট পর্যন্ত খননকালে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ক্রমাগত গ্যাস নির্গমন হতে থাকায় তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানিয়েছেন, ভূগর্ভের কোনো ফাটল দিয়ে গ্যাস উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হলেও, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ জোরদার করে বুধবার রাতে তা পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তেহরানে হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারালেন হামেদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
তেহরানে হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারালেন হামেদ

ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জাই নামের এক তরুণ। নিহতদের মধ্যে তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদ্দেসেহও রয়েছেন, যাঁদের বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। নতুন সংসারে সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন এই দম্পতি, কিন্তু একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সেই সাজানো সংসার ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত নিজের এক অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় হামেদ এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

হামেদ জানান, গত ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তাঁদের পারিবারিক আবাসিক ভবনটিতে এই হামলা চালানো হয়, যার পর থেকে তাঁর পুরো জীবন চিরতরে বদলে গেছে। বোমা হামলার পর সাত মাস পার হলেও তিনি যেন এখনো পুরোপুরি বাস্তবে ফিরতে পারেননি এবং সেই ধ্বংসস্তূপে প্রিয়জনদেরই খুঁজে ফেরেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই ভবনটিতে তাঁর দাদা ও বাবার চাচা মিলে অ্যাপার্টমেন্টগুলো ভাগ করে নিয়েছিলেন, যেখানে এক বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন হামেদ। ঘটনার দিন সোমবার দুপুর ১টার দিকে কাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর স্ত্রী মোহাদ্দেসেহ তাঁকে ফোন বা বার্তা করে মাথাব্যথার ওষুধ আনতে বলেন। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও হঠাৎ বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরত্বে বিকট শব্দ ও শিস দেওয়ার মতো আওয়াজ শুনতে পান এবং ঠিক তখনই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শক্তিতে মাটি কেঁপে ওঠার পর স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন হামেদ। শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করা সেই বাড়িটি ততক্ষণে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন একাকী জীবন কাটানো হামেদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কেবল ভবন বা পরিসংখ্যানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর মধ্য দিয়ে মানুষের পরিবার, ভালোবাসা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন চিরতরে হারিয়ে যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ পিএম
এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ দুই বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এর মধ্যে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কোনো বছর পাসের হার এত নিচে নামেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এদিকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

 

আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিন দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওসি) সই করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।

বৈঠকে তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘ত্রিপক্ষীয় আর্কটিক-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব’ (টিএপিপি) প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আর্কটিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।

এ ছাড়া তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীনের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক