শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

স্পেন

বার্সেলোনায় মুখমণ্ডলের অস্ত্রোপচারের ১০ শতাংশের কারণ বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনা

বার্সেলোনা প্রতিনিধি স্পেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
বার্সেলোনায় মুখমণ্ডলের অস্ত্রোপচারের ১০ শতাংশের কারণ বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনা

বার্সেলোনার ভ্যাল দে হেব্রন হাসপাতালে মুখমণ্ডলের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে একজন বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। হাসপাতালটির প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্নস বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরের রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন চিকিৎসক বার্নাত লোপেস-মাসরামন ও আলেকজান্ডার লুগিলদে-গুয়েরবেক। চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্কুটার দুর্ঘটনায় মুখমণ্ডলের গুরুতর আঘাত তুলনামূলকভাবে খুব বেশি দেখা না গেলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দুর্ঘটনার পর রোগীদের চোখের সমস্যা, চোয়ালে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসক বার্নাত লোপেস-মাসরামন জানান, হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দিতে গিয়ে তাঁরা বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনায় মুখমণ্ডলে আঘাত পাওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করছিলেন। সেই পর্যবেক্ষণকে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে যাচাই করতেই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনায় চালক প্রায়ই সামনের দিকে ছিটকে পড়েন। ফলে মুখমণ্ডল সরাসরি আঘাতের ঝুঁকিতে থাকে। ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে মুখের শক্ত হাড়, এমনকি চোয়ালও ভেঙে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধরনের দুর্ঘটনায় আঘাতের মাত্রা কমাতে উপযুক্ত হেলমেট ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, শুধু সাধারণ হেলমেট নয়, মুখমণ্ডল ও বিশেষ করে চোয়াল সুরক্ষিত রাখতে পারে এমন পূর্ণাঙ্গ হেলমেট ব্যবহার করা জরুরি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের গড় বয়স ২৭ দশমিক ৯ বছর। মুখমণ্ডলের অস্ত্রোপচারের অন্যান্য কারণের তুলনায় এটি সবচেয়ে কম। অন্য কারণগুলোতে আক্রান্ত রোগীদের গড় বয়স ছিল ৪০ দশমিক ৬ বছর।

হাসপাতালে থাকার সময়ের ক্ষেত্রেও দুই দলের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। স্কুটার দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের হাসপাতালে গড়ে ৭ দশমিক ৭ দিন থাকতে হয়েছে। অন্যদিকে অন্যান্য কারণে মুখমণ্ডলে আঘাত পাওয়া রোগীদের হাসপাতালে থাকার গড় সময় ছিল ১৬ দশমিক ৭ দিন। স্কুটার দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হয়েছিল। অন্য দুর্ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ছিল ৪৯।

গবেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক স্কুটার দুর্ঘটনা মুখমণ্ডলের অস্ত্রোপচারের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট আঘাতের পাশাপাশি স্কুটার দুর্ঘটনাও এখন এ ধরনের অস্ত্রোপচারের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে। তাই স্কুটার চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

| তথ্যসূত্র:** বেতেভে (betevé), ভ্যাল দে হেব্রন হাসপাতালের গবেষণা

তেহরানে হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারালেন হামেদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
তেহরানে হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারালেন হামেদ

ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জাই নামের এক তরুণ। নিহতদের মধ্যে তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদ্দেসেহও রয়েছেন, যাঁদের বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। নতুন সংসারে সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন এই দম্পতি, কিন্তু একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সেই সাজানো সংসার ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত নিজের এক অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় হামেদ এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

হামেদ জানান, গত ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তাঁদের পারিবারিক আবাসিক ভবনটিতে এই হামলা চালানো হয়, যার পর থেকে তাঁর পুরো জীবন চিরতরে বদলে গেছে। বোমা হামলার পর সাত মাস পার হলেও তিনি যেন এখনো পুরোপুরি বাস্তবে ফিরতে পারেননি এবং সেই ধ্বংসস্তূপে প্রিয়জনদেরই খুঁজে ফেরেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই ভবনটিতে তাঁর দাদা ও বাবার চাচা মিলে অ্যাপার্টমেন্টগুলো ভাগ করে নিয়েছিলেন, যেখানে এক বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন হামেদ। ঘটনার দিন সোমবার দুপুর ১টার দিকে কাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর স্ত্রী মোহাদ্দেসেহ তাঁকে ফোন বা বার্তা করে মাথাব্যথার ওষুধ আনতে বলেন। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও হঠাৎ বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরত্বে বিকট শব্দ ও শিস দেওয়ার মতো আওয়াজ শুনতে পান এবং ঠিক তখনই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শক্তিতে মাটি কেঁপে ওঠার পর স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন হামেদ। শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করা সেই বাড়িটি ততক্ষণে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন একাকী জীবন কাটানো হামেদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কেবল ভবন বা পরিসংখ্যানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর মধ্য দিয়ে মানুষের পরিবার, ভালোবাসা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন চিরতরে হারিয়ে যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ পিএম
এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ দুই বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এর মধ্যে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কোনো বছর পাসের হার এত নিচে নামেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এদিকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

 

আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিন দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওসি) সই করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।

বৈঠকে তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘ত্রিপক্ষীয় আর্কটিক-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব’ (টিএপিপি) প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আর্কটিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।

এ ছাড়া তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীনের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক