শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাকের শিকার ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাকের শিকার ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্সে এক ভয়াবহ সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিন্যান্স বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, চুরি যাওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক ইতিমধ্যে জব্দ করা সম্ভব হলেও বড় একটি অংশ এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে। তবে গ্রাহকদের সব ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিন্যান্সের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ সাইবার হামলার শিকার হওয়ার পর সেটিকে ব্যবহার করেই হামলাকারীরা অনুমতি ছাড়া বিশাল পরিমাণের অর্থ সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালাইসিস এই নজিরবিহীন হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার আলোচিত সাইবার হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’-কে দায়ী করেছে। গবেষকদের মতে, এই হামলার কৌশল ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে হওয়া ১৫০ কোটি ডলার হ্যাকিংয়ের ঘটনার স্পষ্ট মিল রয়েছে। টিআরএম ল্যাবসের বৈশ্বিক নীতিবিষয়ক প্রধান অ্যারি রেডবোর্ড মন্তব্য করেন, এটি ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি অভূতপূর্ব ও সংকটময় মুহূর্ত। বিন্যান্স সরাসরি উত্তর কোরিয়ার নাম উচ্চারণ না করলেও হ্যাকারদের পরিচয় শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া মূল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স ডটকম আক্রান্ত হলেও তাদের মার্কিন শাখা বিন্যান্স ইউএস অক্ষত রয়েছে।

সাইবার হামলার পরপরই নিরাপত্তা বজায় রাখতে অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে বিন্যান্স। এর মধ্যেই চুরির ঘটনা মোকাবিলায় বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বের দুই অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার ও সার্কেল যৌথভাবে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের ক্রিপ্টো সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করেছে, যার মধ্যে সার্কেল ৮০ কোটি এবং টেথার ১৬০ কোটি ডলার জব্দ করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-ও চুরি হওয়া অর্থ আটকে রাখতে সহায়তার কথা প্রকাশ করেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ক্রিপ্টো হ্যাকিংয়ের খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পর বৈশ্বিক ডিজিটাল মুদ্রাবাজারে তীব্র ধস নেমেছে। শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রাতেও। বর্তমানে ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ও ১৬ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ সংরক্ষণকারী এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়ার ঘটনাটি পুরো ব্লকচেইন খাতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

তেহরানে হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারালেন হামেদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম
তেহরানে হামলায় স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারালেন হামেদ

ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়েছেন হামেদ মির্জাই নামের এক তরুণ। নিহতদের মধ্যে তাঁর ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদ্দেসেহও রয়েছেন, যাঁদের বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। নতুন সংসারে সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন এই দম্পতি, কিন্তু একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সেই সাজানো সংসার ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত নিজের এক অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় হামেদ এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

হামেদ জানান, গত ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তাঁদের পারিবারিক আবাসিক ভবনটিতে এই হামলা চালানো হয়, যার পর থেকে তাঁর পুরো জীবন চিরতরে বদলে গেছে। বোমা হামলার পর সাত মাস পার হলেও তিনি যেন এখনো পুরোপুরি বাস্তবে ফিরতে পারেননি এবং সেই ধ্বংসস্তূপে প্রিয়জনদেরই খুঁজে ফেরেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই ভবনটিতে তাঁর দাদা ও বাবার চাচা মিলে অ্যাপার্টমেন্টগুলো ভাগ করে নিয়েছিলেন, যেখানে এক বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন হামেদ। ঘটনার দিন সোমবার দুপুর ১টার দিকে কাজের সন্ধানে বাইরে যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর স্ত্রী মোহাদ্দেসেহ তাঁকে ফোন বা বার্তা করে মাথাব্যথার ওষুধ আনতে বলেন। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও হঠাৎ বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরত্বে বিকট শব্দ ও শিস দেওয়ার মতো আওয়াজ শুনতে পান এবং ঠিক তখনই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শক্তিতে মাটি কেঁপে ওঠার পর স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন হামেদ। শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করা সেই বাড়িটি ততক্ষণে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন একাকী জীবন কাটানো হামেদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কেবল ভবন বা পরিসংখ্যানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর মধ্য দিয়ে মানুষের পরিবার, ভালোবাসা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বেঁচে থাকার সব স্বপ্ন চিরতরে হারিয়ে যায়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০০ পিএম
এইচএসসিতে সবচেয়ে বেশি ফেল ইংরেজি ও আইসিটিতে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ দুই বিষয়ে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এর মধ্যে ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কোনো বছর পাসের হার এত নিচে নামেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এদিকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

 

আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তি

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তিন দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওসি) সই করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।

বৈঠকে তিন দেশের ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘ত্রিপক্ষীয় আর্কটিক-প্যাসিফিক অংশীদারত্ব’ (টিএপিপি) প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় আর্কটিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।

এ ছাড়া তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় চীনের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক