বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কতা
বার্সেলোনায় শনিবার ফের দাঙ্গার আশঙ্কা, বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ
▪️৩১ অক্টোবরের অনলাইন আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ, আগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩৩, তাদের ৮৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
কাতালান পুলিশের মহাপরিচালক ফেরান লোপেজ জোর দিয়ে বলেন, "আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেশি হবে।"
স্পেনের বার্সেলোনায় আগামী শনিবার, ৩১ অক্টোবর, আবারও সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কাতালোনিয়ার পুলিশ মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। গত ২৪ অক্টোবর শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে নতুন করে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ায় এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশি প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র ও জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী নুরিয়া পারলন বুধবার পার্লামেন্টের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনে বলেন, ৩১ অক্টোবর আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সরকার আশঙ্কা করছে। সম্ভাব্য ঘটনা ঠেকাতে পুলিশের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ও জনবল কাজে লাগানো হবে বলেও তিনি জানান।
টেলিগ্রাম ও টিকটকে নতুন আহ্বান
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের সহিংসতার পর টিকটক ও টেলিগ্রামের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং চ্যানেল থেকে নতুন করে জমায়েতের আহ্বান ছড়ানো হয়েছে। এসব আহ্বানের কয়েকটি বন্ধ করা হলেও সেগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সবাইকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। কিছু আহ্বান সক্রিয় থাকার খবরও পাওয়া গেছে।

মোসোস দ’এসকোয়াদ্রার প্রধান কমিশনার সিলভিয়া কাতা জানিয়েছেন, আগে ছড়িয়ে পড়া বেশির ভাগ আহ্বানের পেছনে সুসংগঠিত কাঠামো ছিল না এবং সেগুলোর অনেকগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তবে শনিবারের আহ্বানটি নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ বেশি, কারণ সেটিকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় অনলাইন চ্যানেল রয়েছে।
পুলিশের হাতে আসা কিছু বার্তায় গয়নার দোকান ও প্রযুক্তিপণ্যের দোকানে চুরি বা লুটপাট, রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। টেলিগ্রামের দুটি গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে দুই হাজারের বেশি সদস্য ছিল বলে কাতালোনিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে অনলাইনে সদস্যসংখ্যা বেশি থাকা বা সহিংসতার আহ্বান ছড়ানো মানেই শনিবার বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামবে, এমন নয়। আহ্বানগুলোর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩৩, অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮৫
গত ২৪ অক্টোবর বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও দোকানে লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ হয়েছে। মোসোস দ’এসকোয়াদ্রার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ ও সাতজন নারী। তাদের মধ্যে ৮৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশের মহাপরিচালক ফেরান লোপেস জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনার ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
গত শনিবারের ঘটনায় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলেছে, অংশগ্রহণকারীদের সহিংসতার মাত্রা, তাদের কম বয়স এবং পরস্পরের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পর্কের অভাব আগে থেকে যথাযথভাবে অনুমান করা যায়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিক্ষোভের মতো ছিল না। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আহ্বানের মাধ্যমে বিভিন্ন তরুণের জমায়েত এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে।
শনিবার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ
সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা বার্সেলোনা নগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করবে। সন্দেহজনক জমায়েত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৪ অক্টোবরের ঘটনার আগে পুলিশ প্রায় ৪০০ সদস্য মোতায়েন করেছিল বলে ৩ক্যাটইনফো জানিয়েছে। কিন্তু ওই প্রস্তুতি সত্ত্বেও সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা যথাযথভাবে অনুমান করা যায়নি বলে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। এবার আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নুরিয়া পারলন জানিয়েছেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া অনলাইন চ্যানেল বন্ধের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ।
শুধু বার্সেলোনা নয়, অন্য শহরেও নজরদারি
সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে ৩১ অক্টোবরের জন্য বার্সেলোনার পাশাপাশি স্পেনের আরও কয়েকটি শহরে জমায়েতের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব শহরের আহ্বান একইভাবে সংগঠিত কি না, কিংবা সেগুলো বাস্তবে সংঘর্ষে রূপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অনলাইন অ্যাকাউন্টের পরিচয় গোপন রাখা, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই আহ্বান পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়া এবং কোনো কেন্দ্রীয় সংগঠন ছাড়াই তরুণদের একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা তদন্তকে জটিল করে তুলছে। পুলিশ এসব আহ্বানের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কতা
শনিবার বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় পুলিশ ও নগর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। কোনো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ জমায়েত, ভাঙচুর বা সংঘর্ষ শুরু হলে সেখানে ভিড় না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া এবং পুলিশের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন বার্তা বা উসকানিমূলক আহ্বান শেয়ার না করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, আগামী শনিবার বার্সেলোনায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কাকে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে শহরে নিশ্চিতভাবেই আবার দাঙ্গা হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই। পুলিশের প্রস্তুতি, অনলাইন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব এবং সম্ভাব্য জমায়েতের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে শনিবারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
| তথ্যসূত্র:** betevé, 3CatInfo, RTVE Catalunya, Europa Press, El País এবং Newtral.es










