শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কতা

বার্সেলোনায় শনিবার ফের দাঙ্গার আশঙ্কা, বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ

▪️৩১ অক্টোবরের অনলাইন আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ, আগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩৩, তাদের ৮৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

স্পেন প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
বার্সেলোনায় শনিবার ফের দাঙ্গার আশঙ্কা, বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ

কাতালান পুলিশের মহাপরিচালক ফেরান লোপেজ জোর দিয়ে বলেন, "আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেশি হবে।"

স্পেনের বার্সেলোনায় আগামী শনিবার, ৩১ অক্টোবর, আবারও সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কাতালোনিয়ার পুলিশ মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। গত ২৪ অক্টোবর শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপে নতুন করে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ায় এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশি প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।

কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র ও জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী নুরিয়া পারলন বুধবার পার্লামেন্টের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনে বলেন, ৩১ অক্টোবর আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সরকার আশঙ্কা করছে। সম্ভাব্য ঘটনা ঠেকাতে পুলিশের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা ও জনবল কাজে লাগানো হবে বলেও তিনি জানান।

টেলিগ্রাম ও টিকটকে নতুন আহ্বান

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের সহিংসতার পর টিকটক ও টেলিগ্রামের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং চ্যানেল থেকে নতুন করে জমায়েতের আহ্বান ছড়ানো হয়েছে। এসব আহ্বানের কয়েকটি বন্ধ করা হলেও সেগুলোর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের সবাইকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। কিছু আহ্বান সক্রিয় থাকার খবরও পাওয়া গেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।
৩১ অক্টোবরের অনলাইন আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ, আগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩৩, তাদের ৮৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

মোসোস দ’এসকোয়াদ্রার প্রধান কমিশনার সিলভিয়া কাতা জানিয়েছেন, আগে ছড়িয়ে পড়া বেশির ভাগ আহ্বানের পেছনে সুসংগঠিত কাঠামো ছিল না এবং সেগুলোর অনেকগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তবে শনিবারের আহ্বানটি নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ বেশি, কারণ সেটিকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় অনলাইন চ্যানেল রয়েছে।

পুলিশের হাতে আসা কিছু বার্তায় গয়নার দোকান ও প্রযুক্তিপণ্যের দোকানে চুরি বা লুটপাট, রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। টেলিগ্রামের দুটি গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে দুই হাজারের বেশি সদস্য ছিল বলে কাতালোনিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

তবে অনলাইনে সদস্যসংখ্যা বেশি থাকা বা সহিংসতার আহ্বান ছড়ানো মানেই শনিবার বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামবে, এমন নয়। আহ্বানগুলোর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩৩, অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮৫

গত ২৪ অক্টোবর বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও দোকানে লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ হয়েছে। মোসোস দ’এসকোয়াদ্রার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ ও সাতজন নারী। তাদের মধ্যে ৮৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের মহাপরিচালক ফেরান লোপেস জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনার ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

গত শনিবারের ঘটনায় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলেছে, অংশগ্রহণকারীদের সহিংসতার মাত্রা, তাদের কম বয়স এবং পরস্পরের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পর্কের অভাব আগে থেকে যথাযথভাবে অনুমান করা যায়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিক্ষোভের মতো ছিল না। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আহ্বানের মাধ্যমে বিভিন্ন তরুণের জমায়েত এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে।

শনিবার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা বার্সেলোনা নগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করবে। সন্দেহজনক জমায়েত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবরের ঘটনার আগে পুলিশ প্রায় ৪০০ সদস্য মোতায়েন করেছিল বলে ৩ক্যাটইনফো জানিয়েছে। কিন্তু ওই প্রস্তুতি সত্ত্বেও সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা যথাযথভাবে অনুমান করা যায়নি বলে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। এবার আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নুরিয়া পারলন জানিয়েছেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া অনলাইন চ্যানেল বন্ধের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতালোনিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ।

শুধু বার্সেলোনা নয়, অন্য শহরেও নজরদারি

সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে ৩১ অক্টোবরের জন্য বার্সেলোনার পাশাপাশি স্পেনের আরও কয়েকটি শহরে জমায়েতের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব শহরের আহ্বান একইভাবে সংগঠিত কি না, কিংবা সেগুলো বাস্তবে সংঘর্ষে রূপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অনলাইন অ্যাকাউন্টের পরিচয় গোপন রাখা, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই আহ্বান পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়া এবং কোনো কেন্দ্রীয় সংগঠন ছাড়াই তরুণদের একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা তদন্তকে জটিল করে তুলছে। পুলিশ এসব আহ্বানের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কতা

শনিবার বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় পুলিশ ও নগর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। কোনো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ জমায়েত, ভাঙচুর বা সংঘর্ষ শুরু হলে সেখানে ভিড় না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়া এবং পুলিশের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন বার্তা বা উসকানিমূলক আহ্বান শেয়ার না করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, আগামী শনিবার বার্সেলোনায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কাকে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে শহরে নিশ্চিতভাবেই আবার দাঙ্গা হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই। পুলিশের প্রস্তুতি, অনলাইন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব এবং সম্ভাব্য জমায়েতের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে শনিবারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।

| তথ্যসূত্র:** betevé, 3CatInfo, RTVE Catalunya, Europa Press, El País এবং Newtral.es

হ্যালোইনে সহিংসতার আশঙ্কা, ফ্রান্সে ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম
হ্যালোইনে সহিংসতার আশঙ্কা, ফ্রান্সে ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

হ্যালোইন উৎসবকে ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে দেশটির সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাঁজোয়া যান ও জলকামানসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হবে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভ দমনের সময়ও এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে চলমান আন্দোলনের কয়েকটি কর্মসূচি ইতোমধ্যে লুটপাট ও দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হ্যালোইনের দিন নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এক সংবাদ সম্মেলনে নুনেজ বলেন, ‘৩১ অক্টোবর জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।’ তিনি জানান, গত সপ্তাহের মতো এবারও প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এ ধরনের বড় পরিসরের মোতায়েনকে তিনি ‘ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত শনিবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

এ ছাড়া এর আগের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের ঘটনায় ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

হ্যালোইন উৎসব ঘিরে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, লুটপাট ও সহিংসতা মোকাবিলায় এবার ফ্রান্সজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিয়ে শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক হাসনাতের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ এম
দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিয়ে শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক হাসনাতের

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, জননিরাপত্তাহীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও লুটতরাজের প্রতিবাদেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ভিডিওবার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাঁর দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জনগণের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

হাসনাত আরও বলেন, হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ ও সড়কে ভীতিকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ার লড়াই অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি কর্মসূচিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

ফুটপাতে শ্রমিকের মৃ‍‍`ত্যু: দুই হাজার টাকার মুচলেকায় সেই কিশোরের জামিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৬ এম
ফুটপাতে শ্রমিকের মৃ‍‍`ত্যু: দুই হাজার টাকার মুচলেকায় সেই কিশোরের জামিন

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত। গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা, উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অতিরিক্ত বন্দীর চাপ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ আদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে কিশোরটির জামিন মঞ্জুর করেন। তার বাবা ও একজন আইনজীবীর জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে বলা হয়, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় কিশোরটির শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। তার বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যা প্রয়োজন। কিন্তু টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৩০০ জন হলেও সেখানে বর্তমানে ১ হাজার ১৯ জন শিশু রয়েছে। জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এ ছাড়া কেন্দ্রে অবস্থানকালে কিশোরটির শৃঙ্খলাবোধ ও আচার-ব্যবহার সন্তোষজনক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্রে তার পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও উঠে আসে। এসব বিবেচনায় তার সর্বোত্তম স্বার্থ ও মানবিক দিককে গুরুত্ব দিয়ে আদালত জামিনের সিদ্ধান্ত নেন।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর কিশোরটির তীব্র জ্বর ও অতিরিক্ত বমি শুরু হয়। প্রথমে তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

চিকিৎসার নথিতে তার অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, মাথায় আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষায় রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ৪ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং সিরাম বিলিরুবিনের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার পাওয়া যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণে এসব ফলাফল কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা নির্দেশ করে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে গেলে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত কিশোর ঢাকার গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

সেদিনই তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরবর্তী শুনানিতে কিশোরটির আইনজীবী দাবি করেন, দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায়ও যথাযথ চিকিৎসা পায়নি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এবার জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক