পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে নদীগুলো প্রাণবন্ত হবে: রুহুল কবির রিজভী
বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ানো গেলে নদীগুলো আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফারাক্কা থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, পদ্মার শাখা-উপনদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় সমুদ্রের লবণাক্ততা বাড়ছে এবং সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে। ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে বিগত দুই দশকে বৃষ্টিপাত প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করার গ্যারান্টি ক্লজ থাকলেও ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা বাদ দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। কিন্তু পানির সংকটে তিস্তাকে ঘিরে থাকা প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা আজ চরম হুমকির মুখে।
পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালসের যৌথ উদ্যোগে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সেলিম রেজা হাবিব। এছাড়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন এবং যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।













