মালয়েশিয়ার সারওয়াকে প্রবাসীদের দোরগোড়ায় হাইকমিশনের সেবা
মালয়েশিয়ার দ্বীপাঞ্চলীয় রাজ্য সারওয়াকে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। দূরবর্তী এ রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমাতে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়।

হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার প্রধান প্রথম সচিব ইয়াসিন কবিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সারওয়াকের কুচিংয়ে এ ক্যাম্প পরিচালনা করেন। এ সময় ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ, আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় জৈবিক তথ্য সংগ্রহ, পাসপোর্ট বিতরণ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়।

হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানো এবং মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের হাতের নাগালে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার নিয়মিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এর ফলে সারওয়াকে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা নিতে কুয়ালালামপুরে যাতায়াতের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমেছে।
বোর্নিও দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সারওয়াক আয়তনের দিক থেকে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম রাজ্য। ঘন বনাঞ্চল, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও বৈচিত্র্যময় আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এ রাজ্য ‘ধনেশ পাখির দেশ’ নামেও পরিচিত।
বর্তমানে সারওয়াকে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী বসবাস করছেন। মালয়েশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা কম হলেও নির্মাণ ও কৃষি খাতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প, কৃষি ও বাগানশিল্পে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এসব কর্মী।
সারওয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সারওয়াকের প্রিমিয়ারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করে রাজ্য সরকার।
বিশেষ করে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্প ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও সাধারণ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও নিয়োগপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে সারওয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা সহজ করা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিশেষ করে কুয়ালালামপুর থেকে দূরে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াচ্ছে।
সারওয়াকে এ সেবা প্রদান প্রবাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি রাজ্যটিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।













