বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুরে সড়ক-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম
ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুরে সড়ক-ড্রেন উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প

ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

বুধবার (৭ অক্টোবর) একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

প্রকল্পগুলোর আওতায় এসব সিটি করপোরেশনে মূলত সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করা হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

রংপুর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্পর্ক নেই। অনেক আগে থেকেই এসব প্রকল্পের প্রস্তুতি চলছে। ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে আরও প্রকল্প আসবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণের প্রকল্পে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া যেকোনো রাস্তা কিংবা অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে তা মেরামত করে দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণও রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে প্রতি ইউনিটের খরচ ছয় টাকা ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে চার ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপের বিষয়টি যুক্ত করায় খরচ দাঁড়ায় ৯ টাকা। এখন প্রধানমন্ত্রী ব্যাটারি ব্যাকআপ আট ঘণ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই প্রকল্পের খরচ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হলো, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন; রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন; গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ; সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি; সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন; গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়, ২য় সংশোধন); বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ; রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ; ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন; ভজনপুর-আটোয়ারী-ময়দানগুড়ি-আমতলী-মির্জাগঞ্জ-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ; খানাটি-রিয়ামারি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত)।

এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন। বিষয়টি একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে।

 

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মালয়েশিয়ায় প্রত্যাবাসনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৪ এম
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মালয়েশিয়ায়  প্রত্যাবাসনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। দেশটিতে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তার এ সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে।

সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। রয়্যাল রেঞ্জার রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের দুই কর্মকর্তা ও ২৬ সদস্যের একটি দল প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করে। ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ ইখওয়ান আদলান জামালউদ্দিন এ দলের নেতৃত্ব দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গানি। তিনি সফরকালে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় মালয়েশিয়া সরকারের প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা দাতুক রোজাইনর রামলি এবং মিয়ানমারে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোহান আরিফ আবদুল রাজাকও উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া সরকারি মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (উইসমা পুত্রা) জানিয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিয়ানমারের বিষয়ে গঠনমূলক ও নীতিনিষ্ঠ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

উইসমা পুত্রা বলেছে, মিয়ানমার আসিয়ানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র। আসিয়ানভুক্ত দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া মিয়ানমারে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাবে। একই সঙ্গে দেশটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেবে।

মালয়েশিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আসিয়ানের সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএম-হাইকমিশন বৈঠক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ এম
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় আইওএম-হাইকমিশন বৈঠক

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন জোরদার এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এ লক্ষ্যে সোমবার (৬ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার ও মিনিস্টার শাহানারা মনিকা। আইওএমের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অভিবাসন করিডোরকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অভিবাসীবান্ধব করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেয় আইওএম।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগার ও আটককেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় আইনি ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়। মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষ করে নারী ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।

একই সঙ্গে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সমন্বয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুফল এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রবাসী ও সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।

এসব কর্মসূচিতে নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের মধ্যে সচেতনতা, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) সিদ্দিকুর রহমান, কাউন্সেলর (কনস্যুলার) ফিরোজ রব্বানী, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) ফাল্গুনী বাগচী এবং থার্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) এসএম সায়েম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ হাইকমিশন দীর্ঘদিন ধরে আইওএমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।

মালয়েশিয়ায় ৩৮ দেশের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে কোরআন প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ এম
মালয়েশিয়ায় ৩৮ দেশের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে কোরআন প্রতিযোগিতা

মালয়েশিয়ায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানান আনোয়ার।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুতগতির ডিজিটাল রূপান্তরের মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে কাজে লাগানোই বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে ঈমান, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত চরিত্রের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এসব পরিবর্তন গ্রহণ করতে হবে।

আনোয়ার বলেন, যারা জ্ঞানের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে এআইকে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হবে, তারা বৈশ্বিক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তবে এআই সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের অর্থ বিদেশি, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর সবকিছু অনুকরণ বা অন্ধভাবে গ্রহণ করা নয়।

আমাদের মূল্যবোধ সংরক্ষণ করতে হবে। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টার মধ্যেও আমাদের ‘তুরাথ’ অর্থাৎ উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্যের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল এবং সরকারের প্রধান সচিব তান সেরি শামসুল আজরি আবু বকর উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ার বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য, এমনকি ডিজিটাল রূপান্তরও বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি, ঐকমত্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ছাড়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

কোরআনের নির্দেশনার আলোকে পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন মুসলমানদের একে অন্যকে জানা, পার্থক্যকে সম্মান করা এবং প্রকৃত সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।

পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে আমাদের কল্যাণ ও রহমতের চেতনাকে কোনোভাবেই হারানো যাবে না। দাওয়াহ পরিচালিত হতে হবে সহমর্মিতা দিয়ে; নিজেদের জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে নয়, বলেন আনোয়ার।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে ঐকমত্য ও শান্তির ভিত্তিতেই দেশে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। কোনো দেশই ঐক্য ও শান্তির চেতনা ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না।

৬ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘মাদানি দিহায়াতি, উম্মাহ দিবারকাত’ (মাদানি মূল্যবোধ ধারণ করি, উম্মাহকে সমৃদ্ধ করি)।

আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে ৩৮টি দেশের মোট ৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২৫ জন কোরআন তেলাওয়াত এবং ২৫ জন কোরআন হিফজ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কোরআন তেলাওয়াত বিভাগে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন মোহামাদ চিক হাসনুল তাকিউদ্দিন চিক সাজালি ও নুর শাকুরা মোহামাদ মুসা। আর কোরআন হিফজ বিভাগে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন মুহাম্মাদ ইজ্জুল আফনান সাজালি ও দিনা হাদফিনা মোহামাদ উমারুল হিশাম।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক