শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রযুক্তির দুনিয়ায় খুদে উদ্যোক্তাদের জয় সেরা ১৩ তরুণ উদ্যোগ, নিরাপদ প্রযুক্তির আহ্বান

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ পিএম
প্রযুক্তির দুনিয়ায় খুদে উদ্যোক্তাদের জয়  সেরা ১৩ তরুণ উদ্যোগ, নিরাপদ প্রযুক্তির আহ্বান

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ৭১ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘টুইম্বল ইয়ুথ কানেক্ট সামিট ২০২৬’ এবং ‘জুনিয়র স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জ-সিজন ১’-এর গালা ডে ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

টুইম্বল, ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন মালয়েশিয়া, ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন ও টিন্স সেভার বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল নিরাপত্তা, শিক্ষা, ভবিষ্যৎ দক্ষতা, উদ্ভাবন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

আয়োজকেরা জানান, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণাসম্পন্ন তরুণদের নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ‘জুনিয়র স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জ’ আয়োজন করা হয়েছে। মে থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে সেরা ১৩টি উদ্যোগ নির্বাচিত হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আয়োজকদের মতে, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধু তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা নয়; বরং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধান ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে মেন্টর, বিচারক, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি কার্যকর উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘টুইম্বল ইয়ুথ কানেক্ট সামিট ২০২৬’-এ মূল বক্তব্য দেন দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক এম নুরুল আলম এফসিএস। বিশেষ অতিথি ছিলেন টেসল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ ইয়াসির এবং ড্যাফোডিল হেলথ ইনস্টিটিউটের প্রভাষক ইসরাক মুজবিন পৃথিল।

সামিটের বিশেষ প্যানেল আলোচনায় শিশু-কিশোরদের জন্য প্রযুক্তিকে কীভাবে আরও নিরাপদ, সহজ ও দায়িত্বশীল করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা।

আলোচনায় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহার, শিক্ষা, ভবিষ্যৎ দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, ইসিএস-এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী নাসরিন সিদ্দিকা, স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি ও নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের উপদেষ্টা আরিফুল হাসান অপু এবং এসিআই পিএলসির অদম্য মেধাবী প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম।

‘জুনিয়র স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জ-সিজন ১’-এর গালা ডেতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন এসিআই পিএলসির অদম্য মেধাবী প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইসিএসের নির্বাহী পরিচালক কাজী নাসরিন সিদ্দিকা, এসবিএলের ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড ইকোসিস্টেম বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. দেওয়ান আদনান এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ইকোসিস্টেমের নির্বাহী পরিচালক ড. কে এম হাসান রিপন।

প্রতিযোগিতার মেন্টর প্যানেলে ছিলেন ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রামের লিড মেন্টর আবদুর রশিদ সোহাগ, কনফিডেন্স গ্রুপের হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস হুমায়ুন রশিদ, গ্রিনটেক সোলারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজিব আশরাফুল ইসলাম এবং টেক্সোর্টের প্রধান নির্বাহী এস এম বেলাল উদ্দিন। জুরি প্যানেলে ছিলেন ইয়ুথ আপস্কিল নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী মো. আলতামিস নাবিল, ফারহানাস ব্রেইনস্টেশনের প্রতিষ্ঠাতা খান ফারহানা, হ্যাপি ভেঞ্চারের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ হাসান ও এসটিএসের হেড অব টেকনোলজি আরেফিন মিজান।

পুরো আয়োজনটি টুইম্বলের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আশরাফের পরিচালনায় এবং টিন্স সেভার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রুদ্র চৌধুরী তুর্জ ও ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তাশদীদ হোসাইন চৌধুরীর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল উদ্ভাবক, সমস্যা সমাধানকারী ও ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

‘জুনিয়র স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জ-সিজন ১’-এর টাইটেল স্পন্সর ছিল কিডলোন। বিশেষ স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক এমডি গ্লোবাল রিসোর্সেস।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক