শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়াজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
মালয়েশিয়াজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

‘মাদানি দিহায়াতি, উম্মাহ দিবারকাতি’ প্রতিপাদ্যে মালয়েশিয়াজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় আলোচনা, দরুদ-সালাম, কোরআন তিলাওয়াত ও শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজারো মুসল্লি।

জাতীয় পর্যায়ে সেলাঙ্গরের সেরডাংয়ে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম) প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল অংশ নেন। শোভাযাত্রার বিভিন্ন দলসহ অনুষ্ঠানে ৪ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান, শিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদলিনা সিদেক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জুলকেফলি আহমাদ, সরকারের প্রধান সচিব তান শ্রী শামসুল আজরি আবু বকর এবং মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগের (জাকিম) মহাপরিচালক দাতুক ড. সিরাজুদ্দিন সুহাইমি উপস্থিত ছিলেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বক্তব্যে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন বা শোভাযাত্রার মধ্যেই ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবকল্যাণের বার্তা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। এ আয়োজন মুসলিমদের মধ্যে চেতনা, সচেতনতা ও আলোকিত মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সেলাঙ্গরে রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে সুলতান শরাফউদ্দিন ইদ্রিস শাহ শাহ আলম ইসলামিক লেকচার অ্যান্ড মুজাকারাহ হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এতে প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মুসলিম নারী ও পরিবার-সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য ৮৪ বছর বয়সী হিন্দন আবদুল্লাহকে ঈদে মিলাদুন্নবী ব্যক্তিত্ব পুরস্কার দেওয়া হয়।

নেগেরি সেমবিলানে ইয়াং দিপেরতুয়ান বেসার নেগেরি সেমবিলান তুয়াংকু মুফরিজ তুয়াংকু মুনাওয়ির ও তুয়াংকু অ্যাম্পুয়ান বেসার তুয়াংকু আয়েশা রোহানি তেংকু বেসার মাহমুদ রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ৭৪টি দলের প্রায় ৪ হাজার অংশগ্রহণকারীর শোভাযাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও টানা ভারি বৃষ্টির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

জোহরে বাতু পাহাতে রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে মেন্তেরি বেসার দাতুক ওন হাফিজ গাজি প্রায় ৫ হাজার মানুষের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। সরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০টি দল এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাতু পাহাত জেলা অফিস প্রাঙ্গণ থেকে সুলতান ইসমাইল মসজিদে পৌঁছায়।

তেরেংগানুতে রাজ্যের রিজেন্ট তেংকু মুহাম্মদ ইসমাইল সুলতান মিজান জয়নাল আবিদিন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এতে প্রায় এক হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘উম্মাহ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে কমিউনিটি সংগঠন গং টক নাসেক কেয়ার ও আন্তর্জাতিক মানবিক ফ্লোটিলা মিশনের কর্মী মুহাম্মদ আস্মাউই মুখতার। ইসলামিক লেখক পুরস্কার পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি সুলতান জয়নাল আবিদিনের (ইউনিসজা) শিক্ষক অধ্যাপক ড. এংকু আহমাদ জাকি এংকু আলভি।

কেদাহতে সুলতান আল আমিনুল করিম সুলতান সালেহউদ্দিন সুলতান বাদলিশাহ ও রাজা মুদা কেদাহ তেংকু সারাফুদ্দিন বাদলিশাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, রাজকীয় বক্তব্য, বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন ও মারহাবান পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম ব্যক্তিত্ব পুরস্কার পান চে ইসমাইল বাকার এবং বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন কেদাহর সাবেক মুফতি দাতুক পাদুকা শেখ হাসবুল্লাহ আবদুল হালিম।

পেরাকে সুলতান নাজরিন শাহ ও রাজা পেরমাইসুরি তুয়াংকু জারা সালিম ইপোর ক্যাসুয়ারিনা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এতে প্রায় ২ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আসমাউল হুসনা পাঠ, পবিত্র কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত ও সম্মিলিত দরুদ পাঠ করা হয়। প্রবীণ পরিচালক ও অভিনেতা দাতুক রহিম রাজালি ‘জায়েদ বিন সাবিত অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

মেলাকায় প্রায় ৭ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ১০১টি দল নিয়ে তুন মোহাম্মদ আলি রুস্তাম শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রাটি বুকিত সেরেন্দিতের তুন ফাতিমাহ স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে বুকিত বারুর ইসলামিক সেন্টার স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়।

পেনাংয়ে রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ইয়াং দিপেরতুয়া নেগেরি তুন রামলি নগাহ তালিব ও তার স্ত্রী তোহ পুয়ান রাজা নূরা আশিকিন রাজা আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সাবেক পেনাং রাজ্য সচিব দাতুক সেরি জুলকিফলি লংকে এ বছরের রাজ্য পর্যায়ের ঈদে মিলাদুন্নবী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আরও কয়েকজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এর আগে ৪৪টি দলের ১ হাজার ৩২০ জন অংশগ্রহণকারী ৩০০ মিটার শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

পাহাংয়ে রাজ্যের রিজেন্ট তেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সাবেক পাহাং রাজ্য অর্থ কর্মকর্তা দাতুক নরজান আহমাদকে ২০২৬/১৪৪৮ হিজরির পাহাং ঈদে মিলাদুন্নবী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি সনদ, ক্রেস্ট ও ১০ হাজার রিঙ্গিত অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন।

সাবাহতে কোটা কিনাবালুর সাবাহ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে রাজ্য পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ইয়াং দিপেরতুয়া নেগেরি তুন মুসা আমান অংশ নেন। এতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৯৬টি দলের অংশগ্রহণে পদাং মেরদেকা থেকে এসআইসিসি পর্যন্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

কেলান্তানে কুবাং কেরিয়ানের আল তাকওয়া মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী ও জাতীয় মাস উদযাপন অনুষ্ঠানেও ছিল ভিন্নধর্মী আয়োজন। ২০টির বেশি ঘোড়া ও প্রায় ৪০০ মানুষ এতে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে ঘোড়া বিভিন্ন কাজে ও যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়ে আসায় শোভাযাত্রায় ঘোড়ার উপস্থিতির প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক