শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বোরকা-নেকাব নিয়ে ইউরোপে কড়াকড়ি, কোন দেশে কী নিয়ম?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৭ এম
বোরকা-নেকাব নিয়ে ইউরোপে কড়াকড়ি, কোন দেশে কী নিয়ম?

বোরকা ও নেকাবসহ পুরো মুখ ঢেকে রাখার পোশাক নিয়ে ইউরোপে আবারও বিতর্ক জোরালো হয়েছে। পর্তুগাল সম্প্রতি জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ বা সীমিত করা ইউরোপীয় দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তবে ইউরোপজুড়ে এ বিষয়ে কোনো একক আইন নেই। কোথাও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা, কোথাও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা স্থানে বিধিনিষেধ, আবার কোনো কোনো দেশে ধর্মীয় পোশাক পরার স্বাধীনতাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

ফ্রান্স থেকেই শুরু

ইউরোপে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করার পথ দেখায় ফ্রান্স। ২০১১ সালে দেশটি বোরকা, নেকাবসহ মুখ পুরোপুরি ঢেকে ফেলার পোশাক নিষিদ্ধ করে। আইন ভাঙলে জরিমানা বা নাগরিক সচেতনতামূলক কোর্সে অংশ নেওয়ার শাস্তি হতে পারে।

ফরাসি সরকারের যুক্তি ছিল—জনসমক্ষে ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট থাকা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মুখের অভিব্যক্তি ও পরিচয় সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। তবে হিজাব, যা মুখ ঢাকে না, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বেলজিয়ামেও কঠোর ব্যবস্থা

ফ্রান্সের পর ২০১১ সালেই বেলজিয়াম জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা চালু করে। আইন ভাঙলে জরিমানা এমনকি সর্বোচ্চ সাত দিনের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বেলজিয়ামও নিরাপত্তা, পরিচয় নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতির বিষয়টিকে আইনের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

ডেনমার্কে পুরো মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ

ডেনমার্ক ২০১৮ সালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা চালু করে। বোরকা ও নেকাবের পাশাপাশি এমন যেকোনো পোশাকের ক্ষেত্রেও আইন প্রযোজ্য, যা মুখ পুরোপুরি আড়াল করে।

দেশটির যুক্তি—জনজীবনে মানুষের পরিচয় স্পষ্ট থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন

বুলগেরিয়ায় জনসমক্ষে নিষেধ

বুলগেরিয়ায় ২০১৬ সাল থেকে জনসমক্ষে বোরকা ও নেকাবসহ পুরো মুখ ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ। তবে স্বাস্থ্য বা পেশাগত প্রয়োজনের মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। মুখ খোলা থাকে এমন সাধারণ হিজাব এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।

অস্ট্রিয়ায় বোরকার পাশাপাশি স্কুলেও কড়াকড়ি

অস্ট্রিয়ায় ২০১৭ সাল থেকে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বোরকা ও নেকাবের পাশাপাশি মুখের বৈশিষ্ট্য আড়াল করে এমন অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এর বাইরে ২০২৫ সালে অস্ট্রিয়ার পার্লামেন্ট ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে ইসলামি হেডস্কার্ফ পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করে।

নেদারল্যান্ডসে সব জায়গায় নয়

নেদারল্যান্ডস পুরো দেশে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধ করেনি। ২০১৯ সাল থেকে স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনের মতো নির্দিষ্ট জায়গায় মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

অর্থাৎ রাস্তাঘাটসহ সব জনপরিসরে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। মূলত যেখানে পরিচয় নিশ্চিত করা ও সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ, সেখানেই বিধিনিষেধ বেশি কঠোর।

লুক্সেমবার্গেও নির্দিষ্ট স্থানে নিষেধ

লুক্সেমবার্গে ২০১৮ সাল থেকে স্কুল, হাসপাতাল, গণপরিবহন, আদালত ও জনসাধারণের জন্য খোলা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় পুরো মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

জার্মানিতে এক নিয়ম নয়

জার্মানির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। দেশজুড়ে পুরো মুখ ঢাকার ওপর একটি অভিন্ন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কিছু রাজ্য ও নির্দিষ্ট পেশা বা পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ফলে জার্মানিতে একজন ব্যক্তির জন্য কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা অনেক ক্ষেত্রে তার অবস্থান, পেশা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

ইতালিতে পুরোনো আইনের ব্যবহার

ইতালিতে ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করার আলাদা কোনো জাতীয় আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইন জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ দেয়, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়।

আইনটি ধর্মীয় পোশাককে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। তবে নিরাপত্তা-সংবেদনশীল কিছু পরিস্থিতিতে নেকাব বা বোরকার ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা হয়েছে।

স্পেনে কী নিয়ম?

স্পেনে দীর্ঘদিন ধরে বোরকা-নেকাব নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একক নিষেধাজ্ঞা ছিল না। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পেত।

তবে স্পেনের নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের আলোচনা চলছে এবং দেশটিতে পুরো মুখ ঢাকার পোশাক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বেড়েছে। তাই স্পেনের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন, স্থানীয় বিধি ও নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ—তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সুইডেনে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব

সুইডেনে ধর্মীয় পোশাকের ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে হিজাব বা নেকাব জনজীবনে পরার সুযোগ রয়েছে।

তবে কিছু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্কুলে বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করেছে। এসব উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

গ্রিসে ধর্মীয় স্বাধীনতা, তবে বাস্তবে বিতর্ক

গ্রিসে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি নিয়ে মাঝেমধ্যে বিরোধ দেখা যায়।

২০২২ সালে একটি হাসপাতালে প্রশিক্ষণরত এক নার্সিং শিক্ষার্থীকে হিজাব পরতে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। বিষয়টি ধর্মীয় বৈষম্যের বদলে প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধির প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পর্তুগাল কেন আলোচনায়?

পর্তুগালের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইউরোপের চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশটির পার্লামেন্ট জনসমক্ষে ধর্মীয় বা লিঙ্গগত কারণে মুখ ঢাকার পোশাক নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করে। এর আওতায় বোরকা ও নেকাব পড়বে। তবে স্বাস্থ্য, পেশা, শিল্প, নিরাপত্তা, আবহাওয়া এবং উপাসনালয়ের মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

এ কারণে পর্তুগালের পদক্ষেপকে ‘সব ইসলামি পোশাক নিষিদ্ধ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মূলত পুরো মুখ ঢেকে ফেলার পোশাকই এই বিধিনিষেধের লক্ষ্য।

কেন এত বিতর্ক?

ইউরোপে বোরকা-নেকাব নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা সরকারগুলো সাধারণত নিরাপত্তা, পরিচয় শনাক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগ ও একীভূত হওয়ার যুক্তি দেয়।

অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন, এ ধরনের আইন বিশেষ করে মুসলিম নারীদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে।

ফলে বিষয়টি শুধু পোশাকের নিয়ম নয়; এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি ও ব্যক্তিস্বাধীনতা—সবকিছুই জড়িয়ে আছে।

এক ইউরোপ, এক আইন নয়

সব মিলিয়ে ইউরোপে বোরকা ও নেকাব নিয়ে কোনো অভিন্ন নীতি নেই। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক ও বুলগেরিয়ার মতো দেশে জনসমক্ষে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানে বিধিনিষেধ আছে। জার্মানিতে রাজ্য ও পরিস্থিতিভেদে নিয়ম আলাদা। আর সুইডেনের মতো দেশে জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই।

অর্থাৎ, ইউরোপে বোরকা-নেকাব নিয়ে বিতর্ক একই হলেও সমাধানের পথ এক নয়—কেউ নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কেউ ব্যক্তিস্বাধীনতাকে, আবার কেউ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।

তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক