শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্যারিসে ‘নজরুলের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনার

নজমুল হক,ফ্রান্স প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম
প্যারিসে ‘নজরুলের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনার

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও চেতনার আলোকে ‘নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার (ফ্রান্স শাখা)-এর উদ্যোগে সোমবার (১০ আগস্ট) প্যারিসের বুলোন এলাকার একটি অভিজাত চার তারকা হোটেলের হলরুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ সরকারের নজরুল বর্ষ উদযাপনের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এ সেমিনারে কবির বিদ্রোহী চেতনা, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দর্শনের সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।ঢাকা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সেমিনারের উদ্বোধন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, কবি ও গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে নজরুলের চেতনার সম্পর্ক নতুন করে অনুধাবন করা জরুরি। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং প্রতিটি প্রজন্মের প্রেরণার উৎস। নতুন বাংলাদেশের পথচলায় তাঁর সাম্য ও শোষণবিরোধী চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, ফ্রান্স শাখার সভাপতি কবি সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নজমুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফয়সল আহমদ চৌধুরী। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আয়ারল্যান্ড প্রবাসী কবি ও আন্তর্জাতিক কলামিস্ট ড. জিন্নুরাইন জায়গীরদার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও জাতীয় কবি ও জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সপ্রবাসীদের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

প্রধান আলোচক ড. জিন্নুরাইন জায়গীরদার বলেন, “জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার সংগ্রামে নজরুলের সাহিত্যকর্ম আমাদের সাহস যুগিয়েছে। তবে জাতি হিসেবে আমরা অনেক কিছু দ্রুত ভুলে যাই। নজরুলের মতো জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ও চেতনাকে যেন আমরা কোনোভাবেই ভুলে না যাই।”
​সেমিনারে ‘নজরুলের চেতনায় নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইসরাত ফ্লোরা।বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারী, রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রির কলেজের সাবেক জিএস মাহবুবুল আলম রাঙ্গা, সিলেট বিভাগ সমাজ কল্যাণ সমিতি ফ্রান্সের সাধারণ সম্পাদক ও রাজনীতিবিদ রেজাউল করিম রেজা, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব রফিকুল হক রাসেল, আব্দুল হাকিম, জবরুল ইসলাম, ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিনিধি ও সংগঠনের উপদেষ্টা সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, দৈনিক দিনকালের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, ফরাসি ভাষা শিক্ষক ও উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুরুল কাদির, ফরাসি থিয়েটারকর্মী সোয়েব মুজ্জামিল, ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন সোহেল, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আক্তার হাসান, প্যারিস আইছার প্রতিনিধি মুহসীন আল আবিদ, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ফ্রান্সের সভাপতি ফেরদৌস করিম, এইড-পয়েন্টের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মাদ ফয়সাল আহমেদ, হেলাল আহমেদ, অ্যাক্টিভিস্ট মনোয়ার পাটোয়ারী এবং সংগঠনের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম।

এছাড়াও এনটিভির প্রতিনিধি আবুল কালাম মামুন, ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি জাফর ইকবাল, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি তানভীর আহমদ তোহা, সাংবাদিক সরদার হাছান ইলিয়াস তানিম, সাবেক ছাত্রনেতা জুয়েল আহমেদসহ জুলাই যোদ্ধা নিসাত মনি, নাজমুল ইসলাম, সুমন আহমেদ চৌধুরী, গউস আহমেদ, মিসবাহ, রুহুল আমীন, জামিল আহমেদ, জুবেল আহমেদ, জুয়েল আহমদ এবং স্থানীয় সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
​আলোচনা পর্ব শেষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি চৌধুরী হায়দার, জাকির খান এবং শিশুশিল্পী রিমিসা রাতুল। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন প্যারিসের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমকুম সাইয়িদা।
​পরিশেষে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথি, বক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক