বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্ররাজনীতি,শিক্ষার পরিবেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ: পথ হারালে ক্ষতি কার, ফিরলে লাভ কার

ড.আজিজুল আম্বিয়া, লন্ডন প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম
ছাত্ররাজনীতি,শিক্ষার পরিবেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ: পথ হারালে ক্ষতি কার, ফিরলে লাভ কার

একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের ওপর। শিক্ষার্থীরা শুধু আগামী দিনের কর্মজীবী মানুষ নন; তারাই ভবিষ্যতের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তাই শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ, ছাত্ররাজনীতির চরিত্র এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যে জাতি তার তরুণদের সঠিক পথে চালিত করতে পারে, সে জাতি অন্ধকারেও আলোর দিশা পায়; আর যে জাতি তাদের অবহেলা করে, সে নিজের ভবিষ্যতের বীজ নিজেই নষ্ট করে ফেলে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বহু গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন জাতীয় সংকটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। অনেক সময় ছাত্রনেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। এ কারণেই দেশের মানুষ ছাত্রসমাজের প্রতি বিশেষ আস্থা ও প্রত্যাশা পোষণ করে। ছাত্ররা যখন জেগে ওঠে, তখন সমাজের বিবেকও জাগ্রত হয়। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় সময়ের দাবি, তাদের পদক্ষেপে ধ্বনিত হয় ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান।

​কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে নানা উদ্বেগ, অভিযোগ এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং জনপরিসরে এমন অভিযোগ প্রায়ই আসে যে, কিছু ব্যক্তি ছাত্র পরিচয় ব্যবহার করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মব সংস্কৃতি কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষ থেকে আবার এসব অভিযোগের সত্যতা, ব্যাপ্তি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। ফলে বাস্তবতা নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং স্বাধীন অনুসন্ধানের ওপরই বর্তায়। অভিযোগ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়; কিন্তু অভিযোগ যখন বারবার উচ্চারিত হয়, তখন রাষ্ট্রের উচিত তা হালকাভাবে না নেওয়া।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

যে অভিযোগই থাকুক না কেন, একটি বিষয় স্পষ্ট—কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো সহিংসতার কেন্দ্র হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল হওয়া উচিত মুক্তচিন্তা, গবেষণা, বিতর্ক, মানবিকতা ও জ্ঞানচর্চার নিরাপদ ক্ষেত্র। সেখানে যদি ভয়, দখলদারিত্ব বা রাজনৈতিক আধিপত্য শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করে, তবে পুরো জাতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষাঙ্গন হলো জাতির মস্তিষ্ক; সেখানে যদি বিষ প্রবেশ করে, তবে চিন্তার শিরা-উপশিরায় তার নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদের প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত ‘শিক্ষার্থী’। রাজনীতি সম্পর্কে জানার, মত প্রকাশের কিংবা গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকার তাদের অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু সেই অংশগ্রহণ কখনোই সহিংসতা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পর্যায়ে যেতে পারে না। একইভাবে কোনো রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রেরও উচিত নয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতার স্থায়ী ময়দানে পরিণত করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি দলীয় প্রভাবের ভারে নুয়ে পড়ে, তবে সেখানে জ্ঞানের বদলে ভয়ের সংস্কৃতি জন্ম নেয়; আর ভয়ের মাটিতে কখনো মেধার ফুল ফোটে না।

শিক্ষার মান নিয়েও আজ অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে কঠোর অধ্যয়ন, নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও মেধার মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য কোনো অন্যায্য প্রভাব কাজ করে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি হবে ভয়াবহ। একটি দেশ তখন দক্ষ মানবসম্পদ হারাবে, কর্মসংস্থানের বাজারে দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। জ্ঞানচর্চা যখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার খোলসে বন্দি হয়ে যায়, তখন ডিগ্রি বাড়ে কিন্তু দক্ষতা বাড়ে না; সনদ বাড়ে কিন্তু সক্ষমতা বাড়ে না।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, তরুণদের একটি অংশ যদি অপরাধচক্র, মাদক, সহিংসতা বা দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ে। একজন তরুণ যখন শিক্ষা ও দক্ষতার পরিবর্তে অবৈধ পথকে সফলতার ‘শর্টকাট’ হিসেবে দেখতে শুরু করে, তখন সমাজে নৈতিক অবক্ষয় মহামারি আকার ধারণ করে। এর প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। একটি সমাজের নৈতিক শিকড় যখন দুর্বল হয়, তখন তার ডালপালা যতই বিস্তৃত হোক না কেন, ঝড়ে তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

​এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে চলবে না। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ শিক্ষার সংকট কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংকট নয়; এটি জাতির আত্মার সংকট। আর আত্মার চিকিৎসা একক হাতে হয় না, সেখানে প্রয়োজন সম্মিলিত যত্ন, ধৈর্য এবং নৈতিক সাহস।

সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। যে-ই অপরাধ করুক না কেন, তার রাজনৈতিক পরিচয়, ছাত্র পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত ও বিচার হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মুক্তি পাওয়া বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা মাত্রই যেমন কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না, তেমনি যাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আইনের শাসন যদি দৃশ্যমান না হয়, তবে মানুষ ন্যায়বিচারের বদলে গুজবের ওপর ভরসা করতে শুরু করে, আর সেটিই রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।
​রাজনৈতিক দলগুলোরও আজ আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। ছাত্রসংগঠনকে যদি নেতৃত্ব তৈরির পাঠশালা হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে সেখান থেকে ভবিষ্যতের দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হবে। আর যদি ছাত্রসংগঠন ক্ষমতার প্রদর্শন, সহিংসতা কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের বাহন হয়ে ওঠে, তাহলে তার খেসারত পুরো জাতিকেই দিতে হবে। নেতৃত্ব মানে কেবল মিছিলের সামনে হাঁটা নয়; নেতৃত্ব মানে শৃঙ্খলা, সংযম, দায়িত্ববোধ এবং বৃহত্তর স্বার্থে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা।
​শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষককে অপমান করা মানে একটি জাতির জ্ঞানচর্চার ভিত্তিকে দুর্বল করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, প্রশাসন ও একাডেমিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষক যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে শ্রেণিকক্ষও নিরাপদ থাকে না। আর শ্রেণিকক্ষ নিরাপদ না হলে ভবিষ্যৎও নিরাপদ থাকে না।
​অভিভাবকদের ভূমিকাও এখানে কম নয়। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে—সে বিষয়ে সচেতন নজরদারি থাকা জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি, গবেষণা, স্বেচ্ছাসেবা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা ইতিবাচক পথে নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে। তরুণদের হাতে যদি বই, খেলার বল, বাদ্যযন্ত্র, গবেষণাগার আর সৃজনশীলতার সুযোগ তুলে দেওয়া যায়, তবে তাদের মন থেকে সহিংসতার আকর্ষণ অনেকটাই কমে যাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তরুণদের প্রতি আমাদের আস্থা হারানো যাবে না। কয়েকজনের অপরাধের দায় পুরো ছাত্রসমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনি অপরাধকে ছাত্ররাজনীতির নামে বৈধতা দেওয়াও সমান ক্ষতিকর। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করছে, পরিবার ও দেশের জন্য সুন্দর স্বপ্ন দেখছে। তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও মেধাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তরুণদের চোখে যদি স্বপ্ন থাকে, তবে জাতির চোখেও ভবিষ্যতের আলো জ্বলে; আর তাদের চোখে যদি ভয় জমে, তবে সমাজের আকাশও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

যদি শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তির সংকট, বেকারত্ব বৃদ্ধি, সামাজিক অস্থিরতা, বিনিয়োগে অনীহা, মেধা পাচার এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে। পক্ষান্তরে, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সত্যিকার অর্থে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করা যায়, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং ছাত্ররাজনীতিকে ইতিবাচক নেতৃত্ব বিকাশের পথে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে বাংলাদেশ একটি দক্ষ, মানবিক ও উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি দেওয়ার কারখানা হবে না, হবে চরিত্র গঠনের আশ্রম; হবে মুক্ত বিতর্কের মঞ্চ, গবেষণার উর্বর ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রকৃত কারিগরখানা।

ইতিহাস সাক্ষী, কোনো জাতি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে টিকে থাকে না। টিকে থাকে শিক্ষা, নৈতিকতা, আইনের শাসন এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর। তাই আজকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্ম কেমন বাংলাদেশ পাবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রসমাজ গড়ে তোলা, যেখানে পরিচয়ের চেয়ে সততা, মেধা, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেম বেশি গুরুত্ব পাবে। কারণ শিক্ষার্থীরা পথ হারালে একটি জাতি পিছিয়ে যায়, আর শিক্ষার্থীরা সঠিক পথে এগোলে পুরো দেশ এগিয়ে যায়। আর সেই এগিয়ে যাওয়া কেবল উন্নয়নের শুষ্ক হিসাব নয়, তা হবে আত্মমর্যাদা, ন্যায়বোধ ও আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এক দৃঢ় ও গৌরবময় যাত্রা।

লেখক ও গবেষক।ইমেইল: [email protected]

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক