শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এলিভাদর দুর্ঘটনায় পর্তুগালে শোকের মাতম: সর্বশেষ নিহত ১৬, আহত ২৩

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৪০ পিএম
এলিভাদর দুর্ঘটনায় পর্তুগালে শোকের মাতম: সর্বশেষ নিহত ১৬, আহত ২৩

ক্ষতিগ্রস্ত ফনিকুলারটি পরিদর্শন করছেন কর্মকর্তারা।

বুধবার ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় লিসবন শহরসহ পুরো পর্তুগালে চলছে শোকের মাতম। শহরের অন্যতম বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র ‘এলিভাদর দা গ্লোরিয়া’–তে যখন খ্যাতনামা হলুদ রঙের একটি ফুনিকুলার (ঢাল বেয়ে ওঠা-নামা করা রেলযান) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে একটি ভবনে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

দুর্ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ১৬ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন।, এই দুর্ঘটনা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

“Elevador da Glória”- ফুনিকুলারটি ((ঢাল বেয়ে ওঠা-নামা করা রেলযান)) এই রুটে চলাচল করতো।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা:

দুর্ঘটনাটি স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ঘটে। ফুনিকুলারটি লিসবনের কেন্দ্রস্থল রেস্তোরাদোরেস স্কয়ার থেকে জনপ্রিয় বারিও আল্টো এলাকায় যাতায়াত করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রাপথে হঠাৎ সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে “ব্রেকহীন অবস্থায়” দ্রুত নিচে নেমে আসে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পর্তুগিজ গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, মূল ট্র্যাক টানার জন্য ব্যবহৃত তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে ফুনিকুলারটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে সেটি প্রথমে অপর একটি যানে ধাক্কা দেয় এবং পরে পাশের ভবনে গিয়ে আছড়ে পড়ে।

৬০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ২২টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাই প্রথমে আহতদের উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

একজন পর্যটক গাইড, মারিয়ানা ফিগুয়েরেদো, সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে জানান: “কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমি সেখানে পৌঁছে যাই। মানুষ জানালা ভেঙে লাফ দিচ্ছিল। পরে আরেকটি গাড়ি চূর্ণ হয়ে থাকতে দেখি। ভেতরে শুধু নীরবতা, তারপর একে একে মৃতদেহ বের করা হয়।”

আহতদের চিকিৎসার জন্য কয়েক ডজন প্যারামেডিক, অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং পুলিশ কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন।

হতাহতের তালিকা:

প্রথমে জরুরি সেবাদাতারা ১৫ জনের মৃত্যুর খবর দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে লিসবন সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান মারগারিদা কাস্ত্রো জানান নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হয়েছে। তবে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রো নিশ্চিত করেন নিহতের সংখ্যা ১৬ জন।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন পর্তুগিজ, ২ জন দক্ষিণ কোরিয়ান, ২ জন কানাডিয়ান, ১ জন সুইস, ১ জন জার্মান, ১ জন মার্কিন নাগরিক, ১ জন ইউক্রেনীয়
এছাড়া আরও ৩ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

প্রথম নিহত হিসেবে চিহ্নিত হন ফুনিকুলারের গার্ড-ফ্রেন্ডসম্যান আন্দ্রে মার্কেস। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্মরণ করেছে “দায়িত্বশীল ও প্রফুল্ল সহকর্মী” হিসেবে।

আহতদের মধ্যেও বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন—পর্তুগাল, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, কাবো ভার্দে, মরক্কো এবং সুইজারল্যান্ড।
একজন ৩ বছরের জার্মান শিশু জীবিত উদ্ধার হলেও তার বাবা নিহত এবং মা আহত হয়েছেন।

ফনিকুলারগুলি পর্তুগিজ রাজধানীর খাড়া ঢাল বেয়ে ভ্রমণ করাকে সহজ করে তোলে।

লিসবনে শোক:

লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান শোকবার্তা পাঠিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক বিবৃতিতে বলেন, “পর্তুগালের জনগণের সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি।”

রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন:

দুর্ঘটনার পর থেকেই রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে নানা প্রশ্ন উঠছে। পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ম্যানুয়েল লিয়াল দাবি করেছেন, “ফুনিকুলারের রক্ষণাবেক্ষণ আবার পুর্বের নিজস্ব কর্মীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। বহিরাগত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়।”

ফুনিকুলারের তত্ত্বাবধান করছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমএনটিসি । তবে তাদের চুক্তির মেয়াদ আগস্টে শেষ হয়েছে। কোম্পানি জানায়, সব রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল মেনে চলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এটি চালু হয় ১৮৮৫ সালে। তারপর এটি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ১৯১৫ সালে বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার শুরু করা হয় এবং  ২০০২ সালে এটি জাতীয় ঐতিহ্যের মর্যাদা পায়।

মাত্র ২৭৫ মিটার দীর্ঘ এই রুটটি রেস্তোরাদোরেস স্কয়ার থেকে বারিও আল্টোকে যুক্ত করে এবং তিন মিনিটেই যাত্রা শেষ হয়। উজ্জ্বল হলুদ রঙের কারণে এটি শুধু পরিবহনই নয়, লিসবনের প্রতীকী পর্যটন আকর্ষণ।

এর আগে ২০১৮ সালের ৭ মে একই ফুনিকুলার লাইনচ্যুত হয়েছিল, তবে সেবার কেউ হতাহত হননি।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক