শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে বাংলাদেশি আলেমদের বৈঠক: ইফতা শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান

আফছার হোসাইন, মিশর প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৬ এম
মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে বাংলাদেশি আলেমদের বৈঠক: ইফতা শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান

বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ও (দারুল ইফতা আল-মিসরিয়াহ)-এর প্রধান ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশি আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল। বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে আসা এই প্রতিনিধি দলটি কায়রোতে গ্র্যান্ড মুফতির কার্যালয়ে এ বৈঠকে মিলিত হন।সোমবার (২৯ জুন) অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি।
​আলেমদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন সম্ভাবনা
​বৈঠকে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সফর দুই দেশের আলেম সমাজের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

​তিনি ইফতা শিক্ষা, ফতোয়া গবেষণা এবং মুফতিদের উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ​যুগোপযোগী মুফতি গঠনের গুরুত্ব ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ উল্লেখ করেন, দারুল ইফতা মিসর মুফতিদের যুগোপযোগী ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষায়িত কোর্সে শরিয়াহ জ্ঞানের পাশাপাশি আরবি ভাষা, সমকালীন বাস্তবতা এবং আধুনিক বিশ্বের নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদান করা হয়।তিনি আরও বলেন, একজন যোগ্য মুফতির জন্য শুধু প্রথাগত ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সমাজের বাস্তব চিত্র, মানুষের জীবনব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই সময়োপযোগী, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ফতোয়া প্রদান করা সম্ভব।
​

মধ্যপন্থা ও সহনশীলতার বার্তা- বাংলাদেশি ইমাম ও আলেমদের উদ্দেশে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, নিজ নিজ দেশে ইসলামের শান্তি, সহনশীলতা, মানবিকতা ও মধ্যপন্থার (ওয়াসাতিয়াহ) আদর্শ তুলে ধরতে হবে। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গভীর গবেষণা, সতর্কতা, আত্মশুদ্ধি এবং বিভিন্ন সমসাময়িক ও গ্রহণযোগ্য ইসলামি মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। মানুষের জন্য দ্বীনের পথ সহজ করা, অযথা কঠোরতা পরিহার এবং বাস্তবতার আলোকে শরিয়াহর নির্দেশনা উপস্থাপন করা একজন মুফতির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

​

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিশরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রস্তাব বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আল-আজহার শরিফ ও দারুল ইফতা মিসরের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সমকালীন ফতোয়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে মিশরের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।
​বৈঠক শেষে মুফতি নুরুল্লাহর প্রতিক্রিয়া সাক্ষাৎ শেষে ঢাকাস্থ ‘দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া’র সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল্লাহ বলেন, মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াহ ও ফতোয়া গবেষণায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
​

তিনি আরও জানান, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘মুআদালা’ (স্বীকৃতি) প্রাপ্ত দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সমসাময়িক ফতোয়া বিভাগ চালুর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি অত্যন্ত মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এই সাক্ষাৎ দুই দেশের ধর্মীয় শিক্ষা ও গবেষণার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
​

প্রতিনিধি দলে যারা ছিলেন উক্ত প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা জোহায়ের ফুরকান (প্রভাষক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম),
​মোহাম্মদ নুর মাজহার আনোয়ারী (সিনিয়র শিক্ষক, দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম), মাওলানা হাফিজ শিব্বির আহমেদ (শিক্ষক, দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া, উত্তরা, ঢাকা), মাওলানা হাফিজ সাইফুল্লাহ বিন জাফর (খতিব, খিলক্ষেত জামে মসজিদ) মাওলানা দেলোয়ার হোসেন (খতিব, বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদ)।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক