শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতা ও আমাদের করণীয়

অসীম বিকাশ বড়ুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতা ও আমাদের করণীয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং এর পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামের মধ্যে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ক ছিল, তা এক রাতের সংঘর্ষে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন সংঘাত নয়, বরং আমাদের সমাজের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধার অভাব এবং নৈতিকতার চরম স্খলনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। একটি ছোট ঘটনার জের ধরে যেভাবে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, তা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি এবং ছাত্র-শিক্ষক-এলাকাবাসীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও তার ভয়াবহতা:
ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার রাতে, যখন এক ছাত্রী তার ভাড়া বাসায় ঢুকতে গেলে দারোয়ানের হেনস্তার শিকার হন। এই ঘটনা দ্রুতই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে জড়ো হন। এরপর যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও শটগান নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীরা এলোপাতাড়ি কোপের শিকার হয়, অনেকে গ্রাম থেকে সাহায্য চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্তনাদ করেন। অন্যদিকে, স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীরা তাদের দোকানপাট ও সম্পত্তিতে হামলা চালিয়েছে। এই সহিংসতায় দুই উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টরসহ প্রায় ২০০ জন আহত হন, যার মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। একজন শিক্ষার্থীকে রামদা দিয়ে একাধিকবার কোপানো হয়েছে এবং তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিনের ভাষায়, “আমরা কোন জগতে আছি? আমার শিক্ষার্থীদের স্থানীয়রা কচুকাটা করছে।” এই একটি উক্তিই পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকট
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর প্রায় পুরো দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিকাল ৪টা পর্যন্ত পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। এই অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া দিতে ব্যর্থতা ছিল। উপ-উপাচার্যরা বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সাহায্য পাননি, যা তাদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে, হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন বাধ্য হয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে এবং র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হয়। এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি আরও আগে নেওয়া গেলে হয়তো এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শিক্ষার পতন এবং এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি:
যখন উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ পীঠস্থানের শিক্ষার্থীরা স্থানীয়, অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ায়, তখন তাদের অর্জিত শিক্ষা এবং নৈতিকতার মধ্যে এক বিশাল ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমন শিক্ষা কি সত্যিই কোনো কাজে আসে? এই সংঘাত যদি চলতে থাকে, তবে এর ফল সুদূরপ্রসারী এবং ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

  • ভাড়া সংকটের আশঙ্কা: শিক্ষার্থীরা হয়তো ভবিষ্যতে আর স্থানীয়দের কাছে বাসা ভাড়া পাবে না, যা উচ্চশিক্ষার জন্য এক বড় ধাক্কা।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি: এই ধরনের অস্থির পরিবেশ নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে নিরুৎসাহিত করবে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

  • মানবসম্পদের ক্ষতি: শিক্ষাই যেখানে উন্নতির মূল চাবিকাঠি, সেখানে শিক্ষার পীঠস্থানেই যদি এমন অস্থিরতা থাকে, তবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন থমকে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে কেবল শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং স্থানীয় ছেলে-মেয়েরাও উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। এভাবে আমরা নিজেরাই নিজেদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ—মানবসম্পদকে হুমকির মুখে ফেলব।

সংকট থেকে উত্তরণের পথ
এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

  • দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

  • দোষীদের বিচার: এই ঘটনায় যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনা আবশ্যক। একইসঙ্গে, যদি কোনো শিক্ষার্থী এই ঘটনার জন্য দায়ী থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর একাডেমিক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

  • গঠনমূলক সমাধান: কেবল শাস্তি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এই সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী, স্থানীয় লোকজন, প্রশাসন এবং সরকারের সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি। এই কমিটি সমস্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

  • মূল্যবোধের শিক্ষা: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধের উপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। শুধু ভালো ফল করা বা সার্টিফিকেট অর্জন করাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য নয়। প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবিক গুণাবলী অর্জন করা, যেখানে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সহমর্মিতা থাকে।

উপসংহার:
এই সংকট থেকে আমাদের সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। যদি আমরা এখন জেগে না উঠি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সংঘাতময় ও মানবিকতাশূন্য দেশে বাস করবে। আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর, শান্তিময় এবং মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য কাজ করি। কবির ভাষায় বলতে হয়, “গাহি সাম্যের গান।” এই বাণীটি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের আচরণ এবং কর্মে এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা একই দেশের নাগরিক এবং আমাদের সবার লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আইন হাতে তুলে না নিয়ে, প্রশাসনকে সম্মান করে এবং দেশকে ভালোবেসে আমরা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারি।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক