পর্তুগালে বোরকা নিষিদ্ধ আইন বিতর্কে নতুন মোড়, শিরোনাম বদলে জননিরাপত্তা গুরুত্ব
পর্তুগালের সংসদে আলোচিত তথাকথিত বোরকা আইন নিয়ে নতুন মোড় এসেছে। বিরোধী দল শেগার প্রস্তাবিত বিলে একাধিক সংশোধনী এনে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিএসডি) বিষয়টিকে ধর্মীয় পোশাকের পরিবর্তে জননিরাপত্তা ও নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করার দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে চায়। সংশোধিত বিলটি সংসদের সাংবিধানিক বিষয়ক, অধিকার, স্বাধীনতা ও নিশ্চয়তা বিষয়ক কমিটিতে আলোচনা ও নীতিগত ভোটের জন্য উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে শেগা উত্থাপিত বিলটি সংসদে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। এতে পিএসডি, সিডিএস এবং লিবারেল ইনিশিয়েটিভ সমর্থন জানালেও সোশ্যালিস্ট পার্টি (পিএস), লিভ্রে, পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি এবং লেফট ব্লক বিরোধিতা করে। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদনের পরপরই এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, ফলে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বিলটির ভাষা ও কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দেয়।শেগার মূল প্রস্তাবের শিরোনামে ছিল জনপরিসরে মুখমণ্ডল আবৃত করা নিষিদ্ধ’ । পিএসডি এই ভাষা পরিবর্তন করে এমন একটি শিরোনাম প্রস্তাব করেছে, যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জনপরিসরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের পরিচয় শনাক্তকরণের নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠার ওপর। দলটির মতে, আইনটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাককে লক্ষ্যবস্তু না করে, নিরাপত্তা ও পরিচয় নিশ্চিত করার সাধারণ নীতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
সংশোধিত প্রস্তাবে জনপরিসরে এমন পোশাক বা অনুষঙ্গ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে মুখ ঢেকে দেয় অথবা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব করে তোলে। তবে নতুন খসড়ায় শুধু ধর্মীয় কারণ নয়, লিঙ্গ, বয়স, উৎস বা অন্য যেকোনো কারণে কাউকে জোর করে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাকেও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে আইনটিকে একটি সাধারণ নিরাপত্তাবিষয়ক বিধান হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
শেগার প্রস্তাবে কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢাকতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পিএসডির সংশোধনীতে এই শাস্তি কমিয়ে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১২০ দিনের জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নাবালক হলে শাস্তি আরও এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানোর বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক অপরাধের ক্ষেত্রেও জরিমানার পরিমাণ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিএসডি। অবহেলার ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২৫০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে ৪০০ থেকে ১ হাজার ইউরো জরিমানার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে শেগার মূল প্রস্তাবে জরিমানার পরিমাণ ছিল অবহেলার ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ২ হাজার ইউরো এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধে ৪০০ থেকে ৪ হাজার ইউরো।
পিএসডির প্রস্তাব অনুযায়ী, আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর। কোনো অভিযোগ বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। এরপর স্থানীয় পৌরসভা প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনা এবং জরিমানা আরোপের দায়িত্ব পালন করবে।
প্রস্তাবিত এই আইন শুরু থেকেই পর্তুগালে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সমর্থকদের দাবি, এটি জননিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং নারীর অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্যবিরোধী সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এসব সাংবিধানিক প্রশ্নের কারণেই বিলটির ভাষা ও কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে পিএসডি










