শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রেক্সিটের ১০ বছর

মত বদলাচ্ছে ব্রিটেন, ইইউতে ফিরে যাওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
মত বদলাচ্ছে ব্রিটেন, ইইউতে ফিরে যাওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে

২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেই সিদ্ধান্তের এক দশক পূর্তিতে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটিশ জনমতের বড় একটি অংশ এখন আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন ব্রেক্সিট ছিল ভুল সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতে আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৫ থেকে ৫৮ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক সুযোগ পেলে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন। একই সঙ্গে ৫৭ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন, ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইইউতে ফিরে যাওয়ার সমর্থন সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ নতুন গণভোটের পক্ষে এবং সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি পুনরায় ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

অর্থনীতিতে ব্রেক্সিটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব:
ব্রেক্সিটের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার থেকে বেরিয়ে আসার ফলে বাণিজ্য ব্যয় বেড়েছে, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমেছে এবং উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান অর্থনীতিবিদদের বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, মাথাপিছু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিচের দিকেই রয়েছে। একই সঙ্গে পাউন্ডের মূল্যহ্রাস, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা অর্থনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রেখেছে।

বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ধাক্কা:
ব্রেক্সিটের ফলে শুধু অর্থনীতিই নয়, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

ইউরোপজুড়ে গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণ, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগের তুলনায় জটিল হয়ে পড়েছে। বহু বিজ্ঞানী মনে করেন, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় গবেষণায় নেতৃত্বের অবস্থান হারিয়েছে।

সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি। আগে সহজে ইউরোপজুড়ে কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক সফর করা গেলেও এখন ভিসা, কাস্টমস ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক শিল্পীর জন্য ইউরোপ সফর ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়েছে।

লন্ডন বনাম ব্রিটেনের অন্য অঞ্চল:
ব্রেক্সিট গণভোটের সময় লন্ডনের অধিকাংশ ভোটার ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের হ্যাভারিংসহ কয়েকটি এলাকায় অধিকাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে ছিলেন।

বর্তমানে এসব এলাকার অনেক ভোটারও হতাশ। তাদের অভিযোগ, ব্রেক্সিটের মাধ্যমে যে উন্নয়ন, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।

তবে ব্রেক্সিট-সমর্থকদের একটি অংশ এখনও বিশ্বাস করেন, সমস্যা ব্রেক্সিটে নয়; বরং সরকার সঠিকভাবে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে, দেশের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হওয়া উচিত এবং অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে আলোচনা:
২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্রেক্সিট বড় কোনো ইস্যু ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বিরোধী ও বামঘেঁষা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দিচ্ছে। কেউ কেউ কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার কথাও বলছেন, যদিও পূর্ণ সদস্যপদ এখনই রাজনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, খুব শিগগির নতুন কোনো গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে জনমতের পরিবর্তন ভবিষ্যতে ব্রিটেনের ইউরোপ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তরুণদের মধ্যে ইউরোপমুখী প্রবণতা:
ব্রেক্সিটের সময় যারা ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, সেই নতুন প্রজন্ম এখন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ইরাসমাস শিক্ষাবৃত্তি এবং ইউরোপে অবাধ চলাচলের সুযোগ ফিরে পেতে আগ্রহী। এ কারণে তরুণ ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, ভবিষ্যতে কোনো এক সময় যুক্তরাজ্যের আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া উচিত।

সামনে কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার জন্য জনসমর্থন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হলেও, বাস্তবে পুনরায় সদস্যপদ পাওয়ার পথ সহজ নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে হলে নতুন করে সদস্যপদের আবেদন, দীর্ঘ আলোচনা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এছাড়া আগের মতো বিশেষ সুবিধা বা ব্যতিক্রমী শর্ত পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম।

তবুও এক দশক পর ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ জনমতের এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন দেশটির রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক