শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই হতে পারে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি

পাভেল সারওয়ার প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই হতে পারে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি

বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় কোনো দেশের উন্নয়নের প্রধান সূচক ছিল তার প্রাকৃতিক সম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান বা জনসংখ্যা। কিন্তু চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে উন্নয়নের নতুন ভাষা হলো জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন। আজ যে দেশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে, সেই দেশই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশও এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা। প্রায় ১৮ কোটির এই দেশে বিপুল সংখ্যক তরুণ রয়েছে, যারা সঠিক শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সুযোগ পেলে দেশের অর্থনীতি, শিল্প এবং সমাজকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তাই উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রশ্নটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র নির্মাণের একটি কৌশলগত জাতীয় অগ্রাধিকার।

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডাটা এবং ব্লকচেইনের মতো প্রযুক্তি অর্থনীতি ও কর্মক্ষেত্রকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বারবার বলা হয়েছে যে আগামী দশকে বহু প্রচলিত পেশা বিলুপ্ত হবে, আবার নতুন ধরনের অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা আর যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষতানির্ভর শিক্ষা এবং প্রযুক্তি-সক্ষম মানবসম্পদ।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল সরকারি সেবা, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ তার বাস্তব উদাহরণ। তবে আগামী ধাপে প্রবেশ করতে হলে আমাদেরকে “উদ্ভাবনী বাংলাদেশ”-এর দিকে এগোতে হবে।

এই যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবক, গবেষক ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান, গবেষণা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। STEM (Science, Technology, Engineering and Mathematics) শিক্ষার পাশাপাশি কোডিং, রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডাটা অ্যানালিটিক্সের মতো বিষয়গুলোকে মূলধারার শিক্ষার অংশ করা সময়ের দাবি।

একইসঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশ্বের যেসব দেশ প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেছে, তারা গবেষণাকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে এখনও গবেষণায় বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।

প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও স্টার্টআপ, ফিনটেক, এডটেক, এগ্রি-টেক, হেলথটেক এবং ই-কমার্স খাতে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঠিক নীতিগত সহায়তা, অর্থায়ন এবং পরামর্শ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো প্রায় প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন। তাই প্রযুক্তিকে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবেও দেখতে হবে।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, ভুয়া তথ্যের বিস্তার বন্ধ করা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলাও সমান জরুরি।

বাংলাদেশের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। যদি আমরা সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করতে পারি, তাহলে আগামী দুই দশকের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। আমাদের তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্ভাবক, গবেষক এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

কারণ ভবিষ্যতের বিশ্বে সম্পদের চেয়ে জ্ঞান, জনসংখ্যার চেয়ে দক্ষতা এবং শ্রমের চেয়ে উদ্ভাবন বেশি মূল্যবান হবে। আর সেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ কোনো স্বপ্ন নয়; এটি একটি বাস্তব সম্ভাবনা। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার জাতীয় অঙ্গীকার।

লেখক: পাভেল সারওয়ার, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ইয়ুথ হাব, মালয়েশিয়া ও ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক