শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কীভাবে ঘটনার শুরু?

স্পেন কাঁপানো জাপাতেরো কেলেঙ্কারি: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ‘অদৃশ্য ক্ষমতা ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য’

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম
স্পেন কাঁপানো জাপাতেরো কেলেঙ্কারি: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ‘অদৃশ্য ক্ষমতা ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য’

একসময় তাকে বলা হতো আধুনিক স্পেনের উদারপন্থী রাজনীতির মুখ। ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান, সমকামী বিবাহ বৈধ করা, সামাজিক সংস্কার—এসব কারণে হোসে লুইস রদ্রিগেস জাপাতেরো শুধু স্পেনেই নয়, পুরো ইউরোপে পরিচিত ছিলেন একজন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই মানুষটিকেই ঘিরে তৈরি হয়েছে স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ফোরক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি।

আজ স্পেনের আদালত, দুর্নীতি দমন ইউনিট, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে একটি প্রশ্ন—ক্ষমতা ছাড়ার পরও কি জাপাতেরো গোপনে বিশাল এক রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন?

তদন্তকারীদের ভাষায়, এটি শুধু দুর্নীতির মামলা নয়; এটি ছিল “অদৃশ্য ক্ষমতার কাঠামো”, যেখানে রাজনীতি, ব্যবসা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করে কোটি কোটি ইউরোর আর্থিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত অবশ্য হঠাৎ হয়নি। এর শেকড় তৈরি হয়েছিল কয়েক বছর আগে, করোনা মহামারির ভয়াবহ সময় থেকে।

২০২০ সাল। পুরো ইউরোপ তখন অর্থনৈতিক সংকটে। করোনাভাইরাসে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, বিমান চলাচল স্থবির, হাজার হাজার কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে। সেই পরিস্থিতিতে স্পেন সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে একটি বিশেষ উদ্ধার তহবিল গঠন করে।

ঠিক তখনই সামনে আসে ‘প্লাস উল্ট্রা’ নামের একটি ছোট বিমান সংস্থা।

স্পেনের সাধারণ মানুষ তখনও এই কোম্পানির নাম খুব বেশি জানত না। তাদের বিমান ছিল হাতে গোনা কয়েকটি, যাত্রী সংখ্যাও সীমিত। বড় কোনো আন্তর্জাতিক অবস্থানও ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেয়।

প্রথম প্রশ্নটা তখনই ওঠে—কেন?

দেশটির বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো যখন আর্থিক সংকটে ধুঁকছিল, তখন তুলনামূলক ছোট একটি কোম্পানিকে এত বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ কেন দেওয়া হলো? বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে।

প্রথমদিকে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। বলা হয়, প্লাস উল্ট্রা “কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ” একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কয়েকজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসতে থাকে অস্বাভাবিক কিছু তথ্য।

দেখা যায়, প্লাস উল্ট্রার মালিকানা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কিছু গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে। আরও দেখা যায়, কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে, সাধারণ নিয়মে তারা এমন সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ছিল না।

এখান থেকেই তদন্তের আগুন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।

স্পেনের অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্ত ইউনিট UDEF বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে। প্রথমে এটি ছিল কেবল আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান। কিন্তু ব্যাংক হিসাব, ফোন রেকর্ড, ই-মেইল এবং ব্যবসায়িক নথি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা এমন একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পান, যা ধীরে ধীরে স্পেনের রাজনৈতিক অন্দরমহলকে নাড়িয়ে দেয়।

তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাপাতেরো।

তখন তিনি আর সরকারি পদে ছিলেন না। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, তিনি এখনও স্পেনের রাজনীতি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, লবিস্ট, বিদেশি প্রতিনিধি এবং করপোরেট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

পুলিশি প্রতিবেদনে তাকে বলা হয় “লিডার এন লা সোমব্রা”—অর্থাৎ “ছায়ার আড়ালের নেতা”।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করতে শুরু করেন, জাপাতেরো সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত না নিলেও তার প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় করা হতো। আর সেই সুবিধা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছিল একাধিক কোম্পানি ও আর্থিক কাঠামো।

এই জায়গাতেই সামনে আসে তথাকথিত “ইন্সট্রুমেন্টাল কোম্পানি” বা কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি।

তদন্তে দাবি করা হয়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হতো অর্থ লেনদেন আড়াল করতে। কাগজে-কলমে দেখানো হতো পরামর্শক সেবা, গবেষণা, ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ বা কনসালটেন্সি। কিন্তু বাস্তবে সেসব কাজের অনেকগুলোর অস্তিত্বই ছিল না।

তদন্তকারীদের ভাষায়, এগুলো ছিল “অর্থ প্রবাহকে বৈধ দেখানোর জন্য তৈরি কৃত্রিম কাঠামো”।

সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটে যখন তদন্তে জাপাতেরোর দুই মেয়ে—লরা ও আলবা রদ্রিগেস এসপিনোসার নাম উঠে আসে।

তাদের প্রতিষ্ঠান ‘হোয়াটদ্যফ্যাভ’কে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন একটি “ফাইনাল চ্যানেল” হিসেবে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ এসে জমা হতো, পরে সেখান থেকে অন্যত্র পাঠানো হতো।

পুলিশের দাবি, কোম্পানিটি ভুয়া কনসালটেন্সি রিপোর্ট তৈরি করত। এসব রিপোর্টের মাধ্যমে কোটি ইউরোর লেনদেনকে বৈধ ব্যবসায়িক সেবা হিসেবে দেখানো হতো।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—জাপাতেরো নিজেই মেয়েদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনার অনুমোদিত ব্যক্তি ছিলেন।

অর্থাৎ, তদন্তকারীদের মতে, তিনি পুরো আর্থিক প্রবাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

এরপর তদন্ত আরও দ্রুত এগোতে থাকে।

স্পেনের বিভিন্ন শহরে অভিযান চালানো হয়। জাপাতেরোর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় নগদ অর্থ, গোপন নথি, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য।

এক অভিযানে প্রায় তিন লাখ ইউরো নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যা গলফ ব্যাগ, ভ্রমণের ব্যাগ এবং ঘরের গোপন স্থানে লুকানো ছিল।

জাপাতেরোর অফিস থেকেও উদ্ধার করা হয় নথিপত্র ও একটি সেফ। সেই সেফে থাকা গয়না ও দামি ঘড়ির মূল্য কয়েক হাজার ইউরো বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

তবে জাপাতেরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অবৈধ কাজ করেননি। তিনি বলছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

কিন্তু তদন্তকারীরা বলছেন, তারা এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; বরং সংগঠিত আর্থিক অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা ও চীনের কিছু ব্যবসায়িক যোগাযোগের তথ্য। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও স্পেনকে কিছু তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।

এই কারণেই এখন পুরো স্পেনে আলোচনা—এটি কি শুধুই দুর্নীতির মামলা, নাকি ইউরোপীয় রাজনীতির আড়ালে থাকা প্রভাবশালী ক্ষমতার এক ভয়ংকর চিত্র?

বর্তমানে তদন্ত চলছে। আদালত, প্রসিকিউটর, দুর্নীতি দমন ইউনিট—সবাই এখন এই মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে। স্পেনের মানুষও অপেক্ষা করছে—এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত সত্যিই কি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গোপন সাম্রাজ্যের মুখোশ খুলে দেবে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক সংঘাতের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক