শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কীভাবে ঘটনার শুরু?

স্পেন কাঁপানো জাপাতেরো কেলেঙ্কারি: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ‘অদৃশ্য ক্ষমতা ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য’

মিরন নাজমুল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম
স্পেন কাঁপানো জাপাতেরো কেলেঙ্কারি: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ‘অদৃশ্য ক্ষমতা ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য’

একসময় তাকে বলা হতো আধুনিক স্পেনের উদারপন্থী রাজনীতির মুখ। ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান, সমকামী বিবাহ বৈধ করা, সামাজিক সংস্কার—এসব কারণে হোসে লুইস রদ্রিগেস জাপাতেরো শুধু স্পেনেই নয়, পুরো ইউরোপে পরিচিত ছিলেন একজন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই মানুষটিকেই ঘিরে তৈরি হয়েছে স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ফোরক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি।

আজ স্পেনের আদালত, দুর্নীতি দমন ইউনিট, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে একটি প্রশ্ন—ক্ষমতা ছাড়ার পরও কি জাপাতেরো গোপনে বিশাল এক রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন?

তদন্তকারীদের ভাষায়, এটি শুধু দুর্নীতির মামলা নয়; এটি ছিল “অদৃশ্য ক্ষমতার কাঠামো”, যেখানে রাজনীতি, ব্যবসা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করে কোটি কোটি ইউরোর আর্থিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই কেলেঙ্কারির সূত্রপাত অবশ্য হঠাৎ হয়নি। এর শেকড় তৈরি হয়েছিল কয়েক বছর আগে, করোনা মহামারির ভয়াবহ সময় থেকে।

২০২০ সাল। পুরো ইউরোপ তখন অর্থনৈতিক সংকটে। করোনাভাইরাসে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, বিমান চলাচল স্থবির, হাজার হাজার কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে। সেই পরিস্থিতিতে স্পেন সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে একটি বিশেষ উদ্ধার তহবিল গঠন করে।

ঠিক তখনই সামনে আসে ‘প্লাস উল্ট্রা’ নামের একটি ছোট বিমান সংস্থা।

স্পেনের সাধারণ মানুষ তখনও এই কোম্পানির নাম খুব বেশি জানত না। তাদের বিমান ছিল হাতে গোনা কয়েকটি, যাত্রী সংখ্যাও সীমিত। বড় কোনো আন্তর্জাতিক অবস্থানও ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেয়।

প্রথম প্রশ্নটা তখনই ওঠে—কেন?

দেশটির বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো যখন আর্থিক সংকটে ধুঁকছিল, তখন তুলনামূলক ছোট একটি কোম্পানিকে এত বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ কেন দেওয়া হলো? বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে।

প্রথমদিকে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। বলা হয়, প্লাস উল্ট্রা “কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ” একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কয়েকজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসতে থাকে অস্বাভাবিক কিছু তথ্য।

দেখা যায়, প্লাস উল্ট্রার মালিকানা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কিছু গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে। আরও দেখা যায়, কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে, সাধারণ নিয়মে তারা এমন সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ছিল না।

এখান থেকেই তদন্তের আগুন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।

স্পেনের অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্ত ইউনিট UDEF বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে। প্রথমে এটি ছিল কেবল আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান। কিন্তু ব্যাংক হিসাব, ফোন রেকর্ড, ই-মেইল এবং ব্যবসায়িক নথি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা এমন একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পান, যা ধীরে ধীরে স্পেনের রাজনৈতিক অন্দরমহলকে নাড়িয়ে দেয়।

তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাপাতেরো।

তখন তিনি আর সরকারি পদে ছিলেন না। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, তিনি এখনও স্পেনের রাজনীতি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, লবিস্ট, বিদেশি প্রতিনিধি এবং করপোরেট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

পুলিশি প্রতিবেদনে তাকে বলা হয় “লিডার এন লা সোমব্রা”—অর্থাৎ “ছায়ার আড়ালের নেতা”।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করতে শুরু করেন, জাপাতেরো সরাসরি সরকারি সিদ্ধান্ত না নিলেও তার প্রভাব ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় করা হতো। আর সেই সুবিধা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছিল একাধিক কোম্পানি ও আর্থিক কাঠামো।

এই জায়গাতেই সামনে আসে তথাকথিত “ইন্সট্রুমেন্টাল কোম্পানি” বা কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি।

তদন্তে দাবি করা হয়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হতো অর্থ লেনদেন আড়াল করতে। কাগজে-কলমে দেখানো হতো পরামর্শক সেবা, গবেষণা, ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ বা কনসালটেন্সি। কিন্তু বাস্তবে সেসব কাজের অনেকগুলোর অস্তিত্বই ছিল না।

তদন্তকারীদের ভাষায়, এগুলো ছিল “অর্থ প্রবাহকে বৈধ দেখানোর জন্য তৈরি কৃত্রিম কাঠামো”।

সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ ঘটে যখন তদন্তে জাপাতেরোর দুই মেয়ে—লরা ও আলবা রদ্রিগেস এসপিনোসার নাম উঠে আসে।

তাদের প্রতিষ্ঠান ‘হোয়াটদ্যফ্যাভ’কে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন একটি “ফাইনাল চ্যানেল” হিসেবে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ এসে জমা হতো, পরে সেখান থেকে অন্যত্র পাঠানো হতো।

পুলিশের দাবি, কোম্পানিটি ভুয়া কনসালটেন্সি রিপোর্ট তৈরি করত। এসব রিপোর্টের মাধ্যমে কোটি ইউরোর লেনদেনকে বৈধ ব্যবসায়িক সেবা হিসেবে দেখানো হতো।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—জাপাতেরো নিজেই মেয়েদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনার অনুমোদিত ব্যক্তি ছিলেন।

অর্থাৎ, তদন্তকারীদের মতে, তিনি পুরো আর্থিক প্রবাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

এরপর তদন্ত আরও দ্রুত এগোতে থাকে।

স্পেনের বিভিন্ন শহরে অভিযান চালানো হয়। জাপাতেরোর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় নগদ অর্থ, গোপন নথি, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য।

এক অভিযানে প্রায় তিন লাখ ইউরো নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যা গলফ ব্যাগ, ভ্রমণের ব্যাগ এবং ঘরের গোপন স্থানে লুকানো ছিল।

জাপাতেরোর অফিস থেকেও উদ্ধার করা হয় নথিপত্র ও একটি সেফ। সেই সেফে থাকা গয়না ও দামি ঘড়ির মূল্য কয়েক হাজার ইউরো বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

তবে জাপাতেরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অবৈধ কাজ করেননি। তিনি বলছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

কিন্তু তদন্তকারীরা বলছেন, তারা এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; বরং সংগঠিত আর্থিক অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা ও চীনের কিছু ব্যবসায়িক যোগাযোগের তথ্য। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও স্পেনকে কিছু তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।

এই কারণেই এখন পুরো স্পেনে আলোচনা—এটি কি শুধুই দুর্নীতির মামলা, নাকি ইউরোপীয় রাজনীতির আড়ালে থাকা প্রভাবশালী ক্ষমতার এক ভয়ংকর চিত্র?

বর্তমানে তদন্ত চলছে। আদালত, প্রসিকিউটর, দুর্নীতি দমন ইউনিট—সবাই এখন এই মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে। স্পেনের মানুষও অপেক্ষা করছে—এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত সত্যিই কি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গোপন সাম্রাজ্যের মুখোশ খুলে দেবে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক সংঘাতের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক